ব্রেকিং:
সেনাবাহিনী আজ থেকে দেশের সকল স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারান্টিন এর বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে। সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলী অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- আইএসপিআর
  • শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৯ ১৪২৬

  • || ০৯ শা'বান ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
৪২

অধিকাংশ নলকুপ অকেজো: পানীয়জলের সংকটে বাঁশখালীর ৬ লক্ষাধিক মানুষ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২০  

গ্রীষ্মের আগমনী বার্তায় হাহাকার হয়ে উঠছে মাঠ-ঘাট। শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই  চট্টগ্রামের সমগ্র বাঁশখালীতে শুরু হয়েছে পানীয় জলের তীব্র সংকট। নানা কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। 

 

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের তুলনায় স্তরে পানি না জমা অন্যতম, বোরোচাষের জন্য গভীর ডীপকল বসিয়ে পানি উত্তোলন এর ফলে বিভিন্ন উৎপাদক নলকূপ সমূহের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এছাড়া এর প্রভাব পড়ছে টিউবওয়েলের ওপর। এ কারণে টিউবওয়েল থেকেও মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পাচ্ছে। 

 

জমিতে সেচের জন্য মাটির গভীরে যে ডীপকল বসানো হয়েছে তার ফলে সাধারণ নলকূপ দিয়ে পানি উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক মোটর এবং সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে গভীর নলকূপের মাধ্যমে অনেক নিচ থেকে পানি তুলে নেওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে বাঁশখালীতে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ হচ্ছে। এ বোরো চাষে প্রচুর পানি প্রয়োজন। 

 

বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় বর্তমানে পানীয় জলের তীব্র সংকট থাকায় সাধারণ জনগণ নানাভাবে সমস্যায় দিনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলার ছনুয়া, খুদুকখালী, গণ্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া, সাধনপুর, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। 

 

সাগর উপকূলের ইউনিয়নগুলো শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই খাল, বিল ও পুকুরের পানি শুকিয়ে যায়। প্রচণ্ড গরম পড়লে উপকূলীয় এলাকার ইউনিয়নগুলোতে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। কয়েকটি গ্রাম বা পাড়ায় নলকূপ থাকলেও তার অধিকাংশই অকেজো বা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। উপকূলীয় এলাকায় একটি নলকূপ বসালে অন্তত  ৯ শত থেকে ১২ শত ফুট গভীরে যেতে হয়। 

 

গভীরে না গেলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় না। গভীরে যেতে হলে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন- উপকূলীয় এলাকায় শত শত নলকূপ অকেজো হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে, যার দরুণ পানীয়জলের তীব্র সংকটের মুখে পড়ছে জনজীবন। 

 

ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশিদ বলেন- 'আমার এলাকায় কয়েকশ,ত নলকুপ থাকলেও বর্তমানে তার বেশিরভাগ নলকুপে পানি না উঠার কারনে সাধারন জনগন পানীয় জলের সমস্যার মধ্যে রয়েছে। উপকুলীয় এলাকায় লবনাক্ত পানি থাকার কারনে এখানকার জনগনের নলকুপের প্রচুর চাহিদা প্রয়োজন হলেও সে অনুসারে নলকুপ পাওয়া যায় না সরকারি ভাবে। ব্যক্তিগত ভাবে নলকুপ বসাতে এক লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ প্রয়োজন প্রয়োজন পড়ে।' 

 

শেখেরখীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মু. ইয়াছিন বলেন- 'আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় কোন নলকুপ নেই। সরকারি ভাবে এবং বিভিন বেসরকারি সংস্থা ও ইপসার মাধ্যমে প্রদক্ত কিছু নলকুপ পাওয়া গেলে ও তা সংখ্যায় নগন্য। ফলে বর্তমানে এ মৌসুমে অধিকাংশ নলকুপে পানি না উঠার কারনে জনগন নানা ভাবে কষ্টের স্বীকার হচ্ছে পানি নিয়ে।' গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম গন্ডামারা ১নং ওয়ার্ডের ওয়াপদার বেড়ীবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২শতাধিক পরিবার তীব্র পানি সংকটে পড়ে মোটর চালিত যন্ত্র থেকে পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। একইভাবে চাম্বল সোনারখীল এলাকায়ও সন্ধ্যা নামলেই পানীয়জলের জন্য লম্বা সারিতে দাঁড়াতে দেখা যায় গ্রামের বৌ-ঝিদের। অপর দিকে শিলকুপের জালিয়া পাড়া ও শাপলা পাড়ায় যে কয়টি নলকুপ আছে তা অকেজো হয়ে পড়ায় বিগত ২ বছর যাবৎ পানি সংকটে ভুগছে তারা। 

 

এহেন অবস্থায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। মিনজির তালা কাহারঘোনা ও চাম্বলের মুন্সিখীল এলাকায়ও মারাত্মক পানি সংকটের কবলে। ভাদালিয়ার কাননগোখীলে সন্ধ্যা হলেই স্থানীয় মোটর থেকে পানি সংগ্রহের প্রতিযোগীতায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকায় শত শত নলকূপ অকেজো হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে যার কোন সংস্কার করা হয়নি। মাত্র কয়েকটি নলকুপেই পানীয় জলের অভাব পুরুণ করছে স্থানীয়রা। অনেকদিন ধরে বাঁশখালীবাসীর চাহিদা অনুযায়ী কোনো নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া নলকূপে শুষ্ক মৌসুমে পানি পায় না জনগণ। বর্তমানে বাঁশখালী পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৬ লক্ষাধিক মানুষ তীব্র পানি সংকটে ভুগছে। 

 

এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বাশঁখালীর দায়িত্বরত উপ-প্রকৌশলী মু. মনিরুজ্জামান দেওয়ানজী বলেন- 'একদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক মোটর এবং সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে গভীর নলকূপের মাধ্যমে অনেক নিচ থেকে পানি তুলে নেওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। 

 

বিশেষ করে জানুয়ারী থেকে মে মাস পযর্ন্ত পানি কম উঠবে, কারন বর্তমানে পানির স্তর ৪০-৫০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ফলে আগের বসানো নলকুপ গুলোতে এ মৌসুমে পানি উঠছেনা। তবে বর্ষাকালে পূনরায় পানি উঠবে। সরকারী ভাবে সাংসদ মুস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সহযোগীতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে আমরা গত বছর ৮৫০ ফুট গভীর বেশ কয়েকটি নলকূপ স্থাপন করেছি। প্রতিটি নলকূপের ব্যয় প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার উপরে। নলকুপের চাহিদা বেশি হলেও সরবরাহ কম। তবে ২০২৫ সাল পযর্ন্ত সরকারী ভাবে আরো বেশী পরিমান বরাদ্দ আসতে থাকবে।'

 

বাঁশখালীতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা যে নলকূপ স্থাপনে অবদান রাখে তারা যদি যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে যেসব এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট থাকে সেসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নলকূপ স্থাপন করে তাহলে পানীয় জলের সংকট অনেকটা কম হবে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।বাঁশখালীর সর্বস্তরের অভিভাবক ও সচেতনমহল শুষ্কমৌসুমে পানীয় জলের সংকট নিরসনে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি'র হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর