• রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৯ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে কঠোর অ্যাকশন

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২০  

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের ব্যাখ্যার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানার আগ্রহ ছিল সবার; কিন্তু তা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ডিজির লিখিত বক্তব্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পর্যালোচনা শেষ হলেই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নানের উদ্ধৃতি দিয়ে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্ট্ক্রলে দেখানো হয়, ডিজির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় মন্ত্রণালয়। এ জন্য তার কাছে পুনরায় ব্যাখ্যা তলব করা হবে। তবে আবদুল মান্নান ওই বক্তব্য ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছেন, কোনো সাংবাদিককে এ কথা তিনি বলেননি। তার এ ধরনের বক্তব্যের কোনো রেকর্ডও কেউ দেখাতে পারবেন না।

 

স্বাস্থ্যসেবা সচিব বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির লিখিত ব্যাখ্যা আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা শুরু করেছি। আমরা যেসব বিষয় জানতে চেয়েছি, সেগুলো তার লিখিত ব্যাখ্যায় রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি। এর জন্য কিছু সময় লাগবে। আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার নাগাদ পর্যালোচনা শেষ হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এর পরই মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত জেকেজির বিষয়ে ডিজি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিনা তা জানতে চাইলে সচিব বলেন, এসব বিষয় তো অধিদপ্তরেরই দেখভাল করার কথা।

 

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিব আসাদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। গত ৪ জুন তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব করা হয়। তবে গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসাদুল ইসলাম বলেছেন, রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে তিনি মৌখিক কোনো নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেননি। মন্ত্রণালয় চাইলে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে রাজি আছেন। দাপ্তরিক ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কী লিখেছেন, তা এখনও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

আলোচনায় স্বাস্থ্য বিভাগ : সার্বিক পরিস্থিতিতে গতকাল সারাদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হচ্ছে। সকাল থেকে সর্বত্র খবর ছড়িয়ে পড়ে ডিজি ডা. আবুল কালাম আজাদ বরখাস্ত হচ্ছেন। এই খবরের সত্যতা জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের কথা তারা জানতে পেরেছেন। এই তালিকায় ডিজিসহ অন্তত দেড় ডজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে। কবে নাগাদ এসব কর্মকর্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি তারা।

 

তবে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, করোনা সংক্রান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অব্যস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সিএমএসডিকেন্দ্রিক কেনাকাটায় দুর্নীতির পাশাপাশি করোনার নমুনা পরীক্ষার কিট, টেকনোলজিস্ট নিয়োগে বাণিজ্যসহ বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে দুর্নীতির দায়ে সিএমএসডির পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের এক ডজন কর্মকর্তাকে ধাপে ধাপে সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

অপর একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন আনা হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। কারণ বর্তমান ডিজি ডা. আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্বাস্থ্য খাতের সবকিছু তার নখদর্পণে। তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে এই পদে দায়িত্ব দিলে তিনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পরিবর্তনের বিষয়ে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করা হয়। তবে জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার ঘটনা শেষ পর্যন্ত সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখান। এর পরই একে একে প্রতারক চক্রের সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দিয়েছেন। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, 'স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তির আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ তাকে চিনতেন না, পরিচয় থাকা তো দূরের কথা।'

 

জেকেজির বিষয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করে, 'প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক আরিফুল চৌধুরী ওভাল গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ওভাল গ্রুপ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ২০১৮-এর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে। ওভাল গ্রুপের সঙ্গে আগে থেকেই কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে জেকেজিকে অনুমতি দেওয়া যায় বলে মনে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেকেজি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।'

 

পরদিন মন্ত্রণালয় থেকে ডিজির কাছে ব্যাখ্যা তলব করে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু জেকেজির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযোগের কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, জেকেজি নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকতে পারে। তা না হলে রিজেন্টের মতো জেকেজির বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হতো।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুরোধে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এর বাইরে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু জানেন না। একই সঙ্গে জেকেজি নামের প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্ত করার বিষয়েও তিনি কোনো সুপারিশ করেননি। এমনকি জেকেজির কাউকে তিনি চিনতেনও না। গ্রেপ্তারের পর টেলিভিশনে ও সংবাদপত্রে তাদের ছবি দেখেছেন। কাজেই এ বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবে।

 

 

দায় অধিদপ্তরের : জেকেজিকে নমুনা সংগ্রহের কাজে যুক্ত করার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ডা. সাবরিনা চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ডিজিকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এরপরই অভিযোগ ওঠে ডিজির সিদ্ধান্তেই নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব পায় জেকেজি। একইভাবে রিজেন্ট হাসপাতালকে যুক্ত করার বিষয়েও ডিজির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রমাণ হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, রিজেন্ট হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলে গত ৭ জুন নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশিদ রিয়াজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রিজেন্ট থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে ডিজির সিদ্ধান্ত চান। ৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিপসম পরিচালককে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা থেকে দৈনিক ২৫টি করে মোট ৫০টি নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

ওই কর্মকর্তা বলেন, অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অভিযোগ করার পর ডিজি বা সংশ্নিষ্টদের তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন ছিল। সবকিছু জানার পরও তারা অভিযোগ আমলে নেয়নি। এর মধ্য দিয়ে ডিজিসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রিজেন্টের যোজসাজশ প্রমাণ হয়।

 

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিবের মৌখিক নির্দেশে রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তি করা হয় বলে ডিজি দাবি করেছেন। ওই সচিবকে বদলি করার তিন দিন পর রিজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নিপসমের পরিচালক। বদলির পর তো মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরে ওই সচিবের কোনো প্রভাব ছিল না। তাহলে নিপসম পরিচালকের অভিযোগ কেন খতিয়ে দেখা হলো না। এ ছাড়া মৌখিক নির্দেশে অফিসিয়াল কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির নেপথ্যে যে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যুক্ত তা একটু পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হয়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, মৌখিক নির্দেশে সরকারি আদেশ জারি করা যায় না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ মৌখিক নির্দেশনা দিলেও সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের ওই বিষয়ে গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখা প্রয়োজন। এতে যা কিছু পাওয়া যাবে তা নথিতে লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেসব বিষয় উল্লেখ করেছে কি-না জানা নেই। এরপরও একজন পরিচালক লিখিতভাবে মহাপরিচালকে রিজেন্টের প্রতারণার ঘটনা জানিয়েছিলেন। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই পরিচালককে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতেই তো অধিদপ্তরের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকা প্রমাণ হয়।

 

অধিদপ্তরের আরও দেড় ডজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে : বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পে কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীরকে এরই মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ওই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। এরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারের দিক থেকে। সেই অনুযায়ী প্রায় দেড় ডজন কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই তালিকা তৈরির আগে করোনাসংক্রান্ত কেনাকাটা, টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সিএমএসডির কেনাকাটায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির নাম এসেছে। ওই কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন এনটিপি কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম। ওই টাস্কফোর্স কমিটিই পিপিই, মাস্কসহ সুরক্ষা সামগ্রীর মান যাচাই করে সুপারিশ করত। এ ছাড়া টেকনোলজিস্ট নিয়োগে দুর্নীতির সঙ্গেও ডা. সামিউল ইসলাম ও পরিচালক প্রশাসন ডা. বেলাল হোসেনের যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এনটিপি কর্মসূচিতে মে মাসের ১৭ তারিখ এবং ২৯ তারিখ নিয়োগ পাওয়া মোট ৬০ জন টেকনোলজিস্টের সবাইকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কভিড-১৯ মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে কাজে যুক্ত থাকা টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনাও নেওয়া হয়। কিন্তু কাজে যোগদান করেননি- এমন টেকনোলজিস্টদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ২ জুন ১৮৩ জনের নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকারের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। টেকনোলজিস্ট নিয়োগে জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ লাখ করে বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে শিগগিরই রদবদল হতে যাচ্ছে। সে সময় এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেন, রদবদল একটি রুটিন ওয়ার্ক। যে কোনো মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার জন্য এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে অনেককে বদলি করা হয়েছে। প্রতিদিনই বদলি-পদায়ন হচ্ছে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর