• বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২২ ১৪২৭

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
২১৫

আজ আসছে ট্রায়ালে বাংলাদেশ-ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২০  

বাংলাদেশ ও প্রতিবেশি দেশ ভারত ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ট্রায়াল রান শুরু হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী চারটি কনটেইনার নিয়ে কোস্টাল জাহাজ এমভি সেজুতির আজ সোমবার রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ট্রান্সশিপমেন্টের চারটি কনটেইনারসহ ১১১ টিইইউস কনটেইনার নিয়ে এমভি সেঁজুতি গত বৃহস্পতিবার ভারতের শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে হলদিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখান থেকে গত রাতে বা আজ রোববার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে নোঙর তুলবে জাহাজটি।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো: ওমর ফারুক গত রাতে জানিয়েছেন, এটি ট্রায়াল রান মাত্র। জাহাজটি ট্রান্সশিপমেন্টের চারটি কনটেইনার নিয়ে আসবে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছলে ট্রানজিট চুক্তি অনুযায়ী জাহাজটি বার্থিং পাবে। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারগুলো নামানোর পর কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থলপথে আখাউড়া হয়ে আগরতলায় যাবে এবং সেখান থেকে ত্রিপুরায় যাবে। চারটি কনটেইনারের মধ্যে দু’টি স্টিল কারখানার টিএমটি বার বোঝাই এবং দু’টি কনটেইনার ডালবোঝাই বলে তিনি জানান। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সড়কপথে কনটেইনারে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কি ধরনের জটিলতা আসতে পরে এই ট্রায়াল রানের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

 

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনের ট্রায়াল রান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস ও অন্যান্য জটিলতায় তা শুরু হয়নি।

এদিকে কলকাতার টেলিগ্রাফ পত্রিকা জানিয়েছে, ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরা ও আসাম যাচ্ছে ভারতীয় একটি মালবাহী জাহাজ। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু হয় কলকাতা থেকে জাহাজটির যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে।

ভারতীয় এক সূত্র জানায়, এটি পরীক্ষামূলক চলাচল। এই অগ্রগতি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৬৫ সালের পর এই প্রথম ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রানজিট হিসেবে বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই ট্রানজিট বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই কয়েক বছর ধরে এই সংযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করছিল।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বন্দর হয়ে ভারতীয় কার্গোর ট্রানজিট ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছে দিল্লি।

কলকাতা বন্দর থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজটির যাত্রা শুরুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া। তিনি বলেন, এই রুটটি বাংলাদেশ হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করার একটি সংক্ষিপ্ত পথ সৃষ্টি করবে। এর মধ্য দিয়ে ইন্দো-বাংলাদেশের নৌপথে সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা হলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৫ সালে উভয় দেশে নৌপথে পণ্য পরিবহনের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে আরেকটি চুক্তিতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে সম্মত হয় উভয় দেশ।

পরীক্ষামূলক পণ্যপরিবহন শুরু হওয়ার ফলে বাংলাদেশ হয়ে নৌ, রেল, সড়ক ও একাধিক পথে আটটি রুটে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে পণ্য পাঠাতে পারবে ভারত। বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করা ভারতীয় মালবাহী জাহাজে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ও আসামের করিমগঞ্জের জন্য স্টিলের বার রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর সেগুলো বাংলাদেশী ট্রাকে করে আগরতলা নিয়ে যাওয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতীয় নৌযানকে চলমান দর অনুসারে ফি প্রদান করতে হবে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই অগ্রগতিকে উভয় দেশের জন্য ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি বলে মনে করছেন। ভারতীয় এক সূত্র মতে, এতে করে উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্য কমে আসবে, যা আমাদের সুবিধা দেবে। বাংলাদেশও সুবিধা পাবে কারণ লজিস্টিকস খাত, সরবরাহ চেইন ও বাণিজ্যিক সেবার প্রচারণায় বিনিয়োগের ফলে সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
বাণিজ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর