• সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১ ||

  • চৈত্র ২৮ ১৪২৭

  • || ২৯ শা'বান ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

আরও সহজ হলো করোনার প্রণোদনা প্যাকেজ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

কোভিড ১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ২১টি প্যাকেজের মাধ্যমে এক লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার ঋণ, নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা ঘোষণা করেছে। সরকার দ্রুত ও সময়োপযোগী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। প্যাকেজের সর্র্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে প্যাকেজ আরও সহজ করেছে সরকার। করোনার প্রভাব মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী এবং সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা দিতে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। খবর অর্থ বিভাগ সূত্রের।

ঋণগ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ মার্চ থেকে আরও ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড ব্যতিরেকে ১৮ মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, জাতীয় সংসদেও আমি বলেছি- ব্যবসায়ীদের আরও ছয় মাস সময় দেওয়া উচিত। ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উভয়ই উপকৃত হবে।


 
অর্থ বিভাগের ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি শীর্ষক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতনভাতা দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। এক হাজার ৯৯২ পোশাক কারখানার ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীকে

 

এ তহবিলের প্রায় পুরো অর্থাৎ চার হাজার ৯৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ঋণের জন্য উদ্যোক্তাদের মাত্র ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৫৪৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৮ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ বাকি রয়েছে ১১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। দেশের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৯ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে। এর মধ্যে ঋণগ্রহীতা সুদ দিবে সাড়ে ৪ শতাংশ আর বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার।

পাশাপাশি মাইক্রো ও কুটিরশিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিল থেকে ১০ হাজার ৮২৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। বাকি ১৯ হাজার ১৭৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। দেশের ৭৬ ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৯ শতাংশ সুদে এ ঋণ পরিশোধ করছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে সুদ দিতে হবে ৪ শতাংশ আর বাকি ৫ শতাংশ সরকার সুদ ভর্তুূকি হিসেবে দেবে।

অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রপ্তানি খাতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে (ইডিএফ) ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ তহবিলের আওতায় সুদের হার কমিয়ে ভ্যারিয়েবল রেটের পরিবর্তে গত এপ্রিল মাসে ২ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে অক্টোবর মাসে তা আরও কমিয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে ৫৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক এ প্যাকেজ বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত।

এদিকে রপ্তানি খাতের আরেক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রি-ফাইন্যান্সিংয়ের পাঁচ হাজার কোটি টাকার স্কিম থেকে চার হাজার ৮৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকাই বিতরণ সম্ভব হয়নি। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিল থেকে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ১২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ কর্মসূচির বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর গৃহীত পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার ওপর ৩ শতাংশ হারে সুদ আরোপ হবে। আর এ তহবিল থেকে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার-নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ সম্মানী প্রণোদনা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো অর্থ বিতরণ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সুবিধাভোগী চিহ্নিত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এ অর্থ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া নভেল করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে লকডাউন এবং সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালনকালে করোনায় আক্রান্ত হলে বা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বরাদ্দ থেকে মাত্র সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকার দুটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এ দুই প্যাকেজের বাস্তবায়ন এখনো সেভাবে শুরু হয়নি।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর