• রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭

  • || ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:
বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে গাইবান্ধায় সেলাই মেশিন বিতরণ বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে গাইবান্ধায় সেলাই মেশিন বিতরণ ‘নগদ’র মাধ্যমে শেখ হাসিনার উপহার পেলেন ১ হাজার ৩শত দুস্থ নারী ‘নগদ’র মাধ্যমে শেখ হাসিনার উপহার পেলেন ১ হাজার ৩শত দুস্থ নারী প্রতি ডোজ ২৫৪ টাকায় করোনার টিকা পাবে বাংলাদেশও বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই, আছে উপজাতি: সন্তু লারমা ও রাজা দেবাশীষ “বাংলাদেশের সঙ্গে আরো জোরালো সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ ভারতের” সর্বোচ্চ বৈদেশিক সাহায্য ॥ নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানাতে নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি “পোশাকশিল্পে অবিশ্বাস্য রকমের প্রবৃদ্ধি হবেই”
১৫৩

ই-জুডিশিয়ারি চালু করা গেলে মামলা জট কমবে:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মামলা ব্যবস্থাপনায় আরও গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ই-জুডিশিয়ারি কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সব আদালতকে আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-জুডিশিয়ারি চালু করা গেলে মামলা জট কমবে।

শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ‘জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন ২০১৯’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এর ফলে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে যেতে বেগ পোহাতে হবে না। আসামিকে কারাগারে রেখেই চালিয়ে নেয়া যাবে বিচার কাজ।’

সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বঙ্গবন্ধু আইন বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির বঙ্গবন্ধু আইন বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত প্রস্তাবটি আমার খুব ভালো লেগেছে। এটা একটা নতুন প্রস্তাব। অনেক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, এটা হবে না কেন?

তিনি বলেন, দেশে বঙ্গবন্ধু আইন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। সেটা হবে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখান থেকে দক্ষ বিচারক পাওয়া যাবে।

বিচারকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করি দেশ, দেশ ও জনগণ এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকরা আপনারা আপনাদের মেধা-মনন প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন।’

দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব নাগরিক যাতে আইনের আশ্রয় লাভের সুবিধা পায়-সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই এবং সেটা আমরা করবো। আমি চাই না যে আমার মতো স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বছরের পর বছর কেউ অপেক্ষা করুক। সবাই যেন ন্যায়বিচার পায়, আইনের আশ্রয় পায়। যেটা আমাদের পবিত্র সংবিধানে আছে।

জনসাধারণকে জাতীয় হেল্প লাইন ১৬৪৩০ নম্বরে টোল ফ্রি কলের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা সবসময় একটা জিনিস বিশ্বাস করেছি যেহেতু আমাদের সংবিধানে বলা আছে আইনের আশ্রয় লাভে সবার সমান অধিকার। আমরা তাতে বিশ্বাস করি। সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেড়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকগুলো রায় খুব দ্রুত দেওয়ার ফলে আমি বলবো বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অনেক অনেক বেড়ে গেছে। সেজন্য আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

বিচার বিভাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো সাহসী পদক্ষেপ, যেমন জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের রায় দেওয়া। অনেক বাধা ছিল। সেই বাধা অতিক্রম করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে এবং এরকম বহু ঘটনা। সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, তারপর কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন যে একটা ছাত্রীকে কীভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। সেই বিচারের রায়, নুসরাত হত্যার কথা আমি বলছি। একেকটা দৃষ্টান্ত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, ইভটিজিং প্রতিরোধ, পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় বন্ধ, যানবাহন সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিক বিচার পাওয়ার ফলে বিচারিক কার্যক্রমের প্রতি তাদের আস্থা বেড়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯-২০১৮ পর্যন্ত সময়ে ১০ বছরে ৪ লাখ ১১ হাজার ৭৭৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ১০ লাখ ১০ হাজার ৩৩৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ২৯২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৩২ হাজার ৮৮০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত লঘু প্রকৃতির অপরাধ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ফলে বিচার বিভাগের উপর চাপ হ্রাস পায় এবং মানুষ স্বস্তিবোধ করে। মোবাইল কোর্টকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনস্বার্থ বিশেষভাবে রক্ষিত হবে।

বাংলায় রায় লেখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মামলার রায় লেখা হয় শুধু ইংরেজি ভাষায়, তাতে অনেক সময় আমাদের সাধারণ মানুষ যারা হয়তো ইংরেজি ভালো বোঝেও না, তারা কিন্তু ধোকায় পড়ে যায়। তারা সঠিক জানতে পারে না যে রায়টা কী হলো। সেজন্য ইংরেজিতে লেখা হোক কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় লেখা থাকা উচিত।’

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর