• বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১১ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

করোনাকালেও সুন্দরবনে ২০০ টন মধু আহরণ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২০  

করোনার প্রভাব পড়েনি সুন্দরবনে মধু-মোম সংগ্রহে। চলতি বছর পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে ২০০ টন মধু ও ৬০ টন মোম আহরণ করা হয়েছে। এসব মধু ও মোম থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১ লাখ টাকা।
সুন্দরবন থেকে আহরিত খলিশা, বাইন ও গরান ফুলের মধু এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন বাজারে।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনী ফরেস্ট স্টেশনের এসও সুলতান আহম্মেদ বলেন, ১ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের মৌসুম। এ বছর বন বিভাগ থেকে পাস নিয়ে মধু সংগ্রহ করতে ৫৭৩টি বোটে ৪ হাজার ১৩ জন মৌয়াল সুন্দরবনে প্রবেশ করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে মধু সংগ্রহ হয়েছে ২০০ দশমিক ৬৫ টন। এছাড়া মোম সংগ্রহ হয়েছে ৬০ দশমিক ১৯৫ টন। মধুতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ লাখ চার হাজার ৮৭৫ টাকা ও মোমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ লাখ এক হাজার ৯৫০ টাকা।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মৌয়াল আব্দুর রশিদ বলেন, চড়া সুদে লাখ টাকা ঋণ নিয়ে নৌকা ভাড়া করে আমরা একটি দল বনে প্রবেশ করি। এরপর বহু কষ্টে মধু আহরণ করি। সুন্দরবন থেকে আমাদের আহরিত মধু পাইকারি দামে কিনে নেন মহাজন। এতে আমরা ন্যায্য দাম পাই না।

তিনি আরো বলেন, মহাজন প্রতি কেজি খলিশা ফুলের মধুর দাম দেয় ৩৫০-৩৮০ টাকা। আর বাইন, গিবো ও গরান ফুলের মধুর দাম দেয় ৩০০-৩৫০ টাকা। অথচ এই মধু বাজারে বিক্রি হয় ৭০০-৮০০ কিংবা ১০০০ টাকা কেজিতে।

শ্যামনগর সদরের মধু বিক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, মধু সংগ্রহের মৌসুমে যখন মৌয়ালরা বন বিভাগ থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে তখন আমি তাদের সুদে টাকা দেই। তারা ফিরে আসার পর মধু ভাগাভাগি হয়। টাকা দেয়ার কারণে একভাগ আমি পাই। এছাড়া বাকি মধু আমি মৌয়ালদের কাছ থেকে কিনে নেই।

এ মধু বিক্রেতা বলেন, সুন্দরবনের খাঁটি এ মধু অনলাইন অর্ডার ও মোবাইলে যোগাযোগ করে পাইকারি দামে কিনে নেন ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হয় এসব মধু। এছাড়া স্থানীয় কিছু ক্রেতাও মধু সংগ্রহ করেন। আমি প্রতিদিন ৪০-৬০ কেজি বিক্রি করি।

তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধু প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হয় ৭০০ টাকা, বাইন ফুলের মধু ৬০০ টাকা, গরান ফুলের মধু ৫৫০ টাকা। এছাড়া গোপালগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা কালোজিরা ফুলের মধু বিক্রি হয় পাইকারি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায়।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, সাতক্ষীরার সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় মৌয়াল রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার। এ বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মধু সংগ্রহে কোনো প্রভাব পড়েনি। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করেই মৌয়ালদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

সাতক্ষীরা জেলা বাজারজাতকরণ কর্মকর্তা সালেহ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত মধু ও মোম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন কোম্পানি কিনে নেয়। খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতেও কিছু চলে যায়। সরকারিভাবে মধুর দাম নির্ধারণ করা নেই। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করেন।

তিনি আরও বলেন, সব ব্যবসায়ীই তাদের মধু সুন্দরবনের খাঁটি মধু বলে দাবি করেন। রাজধানীর বিএসটিআই-তে মধু পরীক্ষা করা যায়। খাঁটি মধু দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ভেজাল মধু কয়েক মাস পর নষ্ট হয়ে যায়, পাত্রের নিচে জমাট বাঁধে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর