বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৯ ১৪২৬   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
৭৩২

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অজানা পাঁচটি ঘটনা

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসে ১০ জানুয়ারি এক অনন্য দিন। মহান স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের এদিন পাকিস্তানি কারাগার থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া স্বাধীন বাংলায় ফিরে আসেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় পৌঁছান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। 


 
এক, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পাকিস্তানি শত্রুমুক্ত হলেও বঙ্গবন্ধু বন্দী ছিলেন হায়নাদের কাছে। শত্রুরা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে কি না? বা বেঁচে থাকলেও তাকে ফিরিয়ে দিবে কি না তা নিয়ে ছিল সংশয়। ৮ জানুয়ারি বিবিসিতে প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায়, পাকিস্তানি হানাদাররা বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে মুক্তি দেন। মুক্তি পাওয়ার পরই বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন হওয়া তার দেশেই ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। তবে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী তা সম্ভব ছিল না। 

এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় দেশে আসতে পারছিলেন না তিনি। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তৃতীয় দেশ হিসেবে ইরান বা তুরস্ককে বেছে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এ প্রস্তাব নাকোচ করে দেন এবং লন্ডন হয়ে দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ ব্রিটেনের প্রবাসীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছিল আত্মিক সম্পর্ক। ১৯৫৬ সাল থেকে তিনি প্রথম যখন বিলেতে যান তখন থেকেই তাদের সঙ্গে গড়ে ওঠে এক আত্মার সম্পর্ক। 


দুই, পাকিস্তান থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির কোনো খবর কোথাও প্রকাশ করা হয়নি। আর তা বঙ্গবন্ধুর নিজের ইচ্ছাতেই হয়েছিল বলে পরে জানা যায়। বঙ্গবন্ধু নিজেই তার মুক্তির খবর বিশ্বকে জানাতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার যাত্রাকালে মাত্র এক দিনের যাত্রা বিরতি নিয়েছিলেন। কারণ তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে আসতে চেয়েছিলেন। 


 
তিন, বঙ্গবন্ধুর সেই মুক্তির সময়ের স্মৃতিচারণ করে ব্যারিস্টার আনিস গণমাধ্যমে বলেন, সেসময় আমরা জানতাম না বঙ্গবন্ধু ফিরছেন কি না? ২৯ ডিসেম্বর প্রথম বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির কথা ভাবছে ভুট্টো। তবে সেটা সত্য কিনা তা আমরা জানতাম না। বঙ্গবন্ধুকে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করে ব্রিটেনের বিরোধী দলীয় নেতা হ্যারোল্ড উইলিয়াম। যিনি পরবর্তীকালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।  

চার, এরপর ৮ জানুয়ারি সকালে বিবিসি সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু মুক্ত হয়ে লন্ডনে আসছেন। সেদিন সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী পাকিস্তানের একটি বিশেষ ফ্লাইট হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে ছুটে আসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র অফিসের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা স্যার ইয়ার মাদার।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু উদগ্রীব ছিলেন কখন তিনি বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। সেখান থেকেই টেলিফোনে বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। লন্ডনে হোটেলে অবস্থানকালেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী টেলিফোনে কথা বলেন।  

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
এই বিভাগের আরো খবর