শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:
জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা বিজেপি ছাড়লো ভারতের মধ্যপ্রদেশের ৮০ জন মুসলিম নেতা আর্থিক প্রযুক্তি ব্লকচেইন বিষয়ে কোর্স চালুতে সহায়তা দেবে সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ প্রত্যাখান করলেন মিয়ানমার সরকার ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সমর্থন পাচ্ছে তাপস ও আতিকুল জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড পেলেন ১৩ জন সরকারের ধারাবাহিকতায় অগ্রগতি দৃশ্যমান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেনে নিন ‘আউজুবিল্লাহ’ পাঠের ফজিলত ও উপকারিতা বকশীগঞ্জে হাতির আক্রমন থেকে বাঁচতে টর্চলাইট ও জেনারেটর বিতরণ নিজেদের মধ্যে দেশ’প্রেমের স্পৃহা বজায় রাখতে হবে, বললেন সেনাপ্রধান
৪৯

ঝাঁক বেধে পাখিদের আত্মহত্যা, রহস্যটা কী?

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯  

এই পৃথিবীতে প্রত্যেক প্রাণীরই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। পাখিরাও এর ব্যতিক্রম নয়। এই পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়মেই জন্ম-মৃত্যুর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। জীবনের মোয়া ছেয়ে অনেকেই আত্মহত্যা করে থাকেন। তবে পাখিরাও যে আত্মহত্যা করে তা কি জানেন? 

 

তাও আবার একটি দু’টি নয় ঝাঁক বেঁধে আত্মহত্যা করে পাখিরা। আরো রহস্যময় বিষয় হচ্ছে হাজার হাজার পাখি প্রতি বছর একটি বিশেষ জায়গায় গিয়েই আত্মহত্যা করে। আসামের রহস্যময় জাতিঙ্গা গ্রাম। সেখানেই ঝাঁক বেঁধে পাখিরা যায় আত্মহত্যা করতে।

 

আত্মহত্যা কূপ জাতিঙ্গা

ভারতের আসামের হাফলং শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট একটি গ্রাম জাতিঙ্গা। আর এখানেই প্রতিবছর নানা জাতের পাখি দলে দলে এসে আত্মহত্যা করে। সাধারণত আগস্ট থেকে নভেম্বরে পাখিদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। স্থানীয় ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, বেশ কয়েকবছর আগে স্থানীয় জেমে-নাগা উপজাতির কিছু লোক জাতিঙ্গাতে প্রথম পাখিদের এমন আচরণ প্রত্যক্ষ করে।

 

রাতের বেলা জ্বালানো অগ্নিকুণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলো ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। আসলে কি ঘটে এ পাখিদের বেলায়? গবেষক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ঝাঁক বেঁধে পাখিরে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ক্ষতবিক্ষত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় এসময় অনেক পাখিই মারা যায়।

 

আবার যেসব পাখি বেঁচে থাকে, তাদের অদ্ভুত আচরণ রীতিমতো বিস্ময়কর। একবার মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার পর কোনো এক অদ্ভুত কারণে এরা নির্জীব হয়ে পড়ে। খাওয়া কিংবা চলাফেরা বন্ধ করে দেয়। এবং এক সময় ধীরে ধীরে মারা যায়। অনেকভাবেই এদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তা সম্ভব হয়নি।

 

অনেক বিজ্ঞানীই এ ঘটনার নানা রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে একটি ব্যাখ্যা এরকম- তীব্র বাতাস এবং কুয়াশায় কাহিল হয়ে পাখিরা গ্রামবাসীর জ্বালানো আলো দেখে আশ্রয়ের জন্য নিচে নামার চেষ্টা করে। এসময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়। আর মাংসের লোভে গ্রামবাসীরা ওই পাখিগুলোকে পিটিয়ে হত্যা করে।

 

বাঁশের লম্বা খুঁটির সাহায্যে মশাল বা লণ্ঠন উঁচিয়ে ধরে অনেক দিন ধরেই পাখি শিকার করে আসছে স্থানীয় আদিবাসীরা। কিন্তু এটা বা অন্যান্য ব্যখ্যা সন্তুষ্ট করতে পারেনি অনেক বোদ্ধাকে। জাতিঙ্গা গ্রামে আত্মাহুতি দিতে আসা পাখিদের মধ্যে রহস্যময় কিছু একটা রয়েছে, এ বিষয়ে দ্বিমত নেই করোরই। কিন্তু ঠিক কি কারণে এখানে বছরের পর বছর ধরে পাখিরা ঝাঁক বেঁধে আত্মহত্যা করতে আসে তার গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা আজো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
এই বিভাগের আরো খবর