মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
৪৩

টোল পড়া সৌন্দর্য নয়, আসলে শারীরিক বিকৃতি!

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০১৯  

মানবদেহে কোনো রোগ বা জন্মগত অঙ্গ বিকৃতি কি কখনো কারো কাছে সৌন্দর্যের কারণ হতে পারে? হ্যাঁ, পারে। যদি তা হয় গাল ও থুতনির টোল!

 

বন্ধু মহলে বা বিপরীত লিঙ্গের মানুষের কাছে একজন মানুষের দাম বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় এই টোল। যে হাসি দিলে টোল পড়ে তার দাম্ভিকতাও থাকে বেশ। এসবের কারণই হলো গালে টোল পড়লে একজন মানুষকে বেজায় সুন্দর দেখায়। কিন্তু এটা সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হলেও আসলে বিষয়টা একটি শারীরিক বিকৃতির ফল।

 

এই বিকৃতির কারণেই আসলে গালে টোল পড়ে। মানুষের হাসির জন্য দায়ী যে মাংসপেশি, তার নাম জাইগোম্যাটিক মেজর। এটি মানুষের মুখ কোনাকুনি বা তির্যকভাবে বাঁকা করে হাসতে সাহায্য করে। মানুষের গালের হাড় থেকে মুখের প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এর জন্যই।

 

আর এই পেশির বিকৃতির ফলেই টোল পড়ে সাধারণত। স্বাভাবিক আকারের থেকে এই পেশির আকার ছোট কিংবা দুই ভাগে বিভাজিত হওয়ার ফলে থুতনিতে বা গালে টোল দেখা যায়। গালের টোলের জন্য হাসার প্রয়োজন পড়লেও থুতনির টোল সবসময়ই দেখা যায়। সচরাচর টোল পড়া মানুষের দুই গালেই টোল দেখা যায়। মাঝে মাঝে এক গালেও দেখা যায়। তবে এটা একেবারেই বিরল।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, টোল বিষয়টা জেনেটিক কারণে হয় তবে অনেকে এর বিরোধিতাও করেন। মা-বাবার কারো টোল থাকলে তাদের সন্তানের টোল থাকার সম্ভাবনা প্রায় ২৫-৫০ শতাংশ। এক্ষেত্রে দুইজনের একজনের টোল সৃষ্টিকারী জিন সন্তানের মধ্যে থাকলেই চলবে। আর মা-বাবার টোল থাকলে সন্তানের টোল থাকার সম্ভাবনা ৫০-১০০ ভাগ! মা-বাবার কারোই এটি না থাকলে সন্তানের টোল থাকার সম্ভাবনা নেই। মুখে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার কারণেও টোল পড়ে। তবে তা স্থায়ী নয়।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর