শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:
১৮৩

থাকছে না ক্রেডিট কার্ডের কড়াকড়ি

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৯  

বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের মাত্র ১০ দিনের মাথায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসল বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ডে আন্তর্জাতিক লেনদেনে এখন থেকে লেনদেনে আলাদা ফরম লাগবে না। তবে, অবৈধ লেনদেন বন্ধে ব্যাংকগুলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে অনলাইন ক্যাসিনো, ফরেক্স ট্রেডিং, বিদেশি শেয়ারবাজারে লেনদেন, ক্রিপ্টো মুদ্রা, বিদেশি লটারি ও বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনা না যায়।

বিষয়টি নিয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-বেসিস। বৈঠকে ১১টি ব্যাংকের হেড অফ কার্ডস/রিটেল উপস্থিত ছিলেন। আর বেসিস-এর পক্ষ থেকে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর ছাড়াও সহ-সভাপতি শোয়েব আহমেদ মাসুদ ও বেসিস-এর ডিজিটাল মার্কেটিং স্থায়ী কমিটির চেয়ার সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবৈধ লেনদেন বন্ধে ব্যাংকগুলো ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন অনলাইন ক্যাসিনো, ফরেক্স ট্রেডিং, বিদেশি শেয়ারবাজারে লেনদেন, ক্রিপ্টো মুদ্রা, বিদেশি লটারি ও বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ক্রেডিট কার্ড দিয়ে না কেনা যায়।

 

গত ১৪ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বিদেশি অবৈধ লেনদেন করা যাবে না। পাশাপাশি কার্ডে কী ধরনের লেনদেন হচ্ছে, গ্রাহকদের তারও হিসাব রাখতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা একটি ফরমও নির্দিষ্ট করে দেয়।

 

এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ির কারণে ফ্রিল্যান্সর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত অনেকেই বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান। গতকাল শনিবার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ জানান, শিগগির এ কড়াকড়ি শিথিল করা হবে।

 

এক ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নজরে এসেছে। তিনি এটি দ্রুত সমাধান করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জানিয়েছেন। ফ্রিল্যান্সারদের কল্যাণে এবং আইটি সেক্টরের প্রসারে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ কড়াকড়ি শিথিল করা হবে।

 

বিদ্যমান নিয়মে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী এককভাবে কোনও পণ্য বা সেবামূল্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধের সুযোগ নিতে পারেন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত দেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ লাখ ৩ হাজার ৪২৭ জন। গত জুনে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জুন মাসে ২০ লাখ ৮৫ হাজারবার কার্ড ব্যবহৃত হয়েছে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
এই বিভাগের আরো খবর