• সোমবার   ২৩ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ৯ ১৪২৭

  • || ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

দেশের শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরেছে, বেড়েছে বিও হিসাবও

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২০  

করোনা মহামারীর মধ্যেই ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজার। মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থার একের পর এক সিদ্ধান্তে কিছুটা আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এরমধ্যেই শেয়ারবাজারে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সূচকও ছাড়িয়েছে ৫ হাজারের কোঠা। বাজারের উন্নয়নে এ পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অনিয়ম-অভিযোগে বিভিন্ন কোম্পানিকে জরিমানাও করা হয়েছে। জালিয়াতির ঘটনায় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবও বন্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসছেন। গত এক মাসে নতুন করে ১ লাখ (বিও) হিসাবধারী বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে এসেছেন।

এদিকে যাচাই বাছাই ছাড়া আর কোন নতুন কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা শেয়ারবাজারে মহামারী করোনাভাইরাস আতঙ্কে গত মার্চে বড় ধরনের ধস নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় টানা ৬৬ দিন বন্ধ রাখা হয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। এর মধ্যেই বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে যোগ দেন আরও তিনজন। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেন। ফলে টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন শুরু হয়। নতুন নেতৃত্বের অধীনে শেয়ারবাজার চালু হলেও অব্যাহত থাকে লেনদেন খরা। তবে জুলাই মাসে এসে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেয় নতুন কমিশন। অনিয়মে জড়িত থাকায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়। সতর্ক করা হয় সরকারী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে আইসিবি পুনর্গঠন উদ্যোগ নেয়া হয়। বাতিল করা হয় এক ডজন দুর্বল কোম্পানির আইপিও। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরনের একের পর এক পদক্ষেপের ফলে ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। ৫০ কোটি টাকার নিচে নেমে যাওয়া লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সূচকও স্পর্শ করেছে ৫ হাজারের কোঠা। অবশ্য লেনদেনের পরিমাণ আরও বেশি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই বাজারে এক হাজার কোটি টাকা লেনদেন কিছুই না। দৈনিক গড় লেনদেন তিন থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। এ সময় পুঁজিবাজার থেকে অনিয়ম করে কেউ অর্থ লুটের সুযোগ পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে কেউ যাতে কাউকে ঠকিয়ে, লুট করে, জালিয়াতি করে, চালাকি করে টাকা-পয়সা নিয়ে যেতে না পারে এজন্য আমাদের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। আমরা প্রত্যেক কমিশন মিটিংয়ে এ ধরনের কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমরা যতদিন আছি কেউ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার সুযোগ পাবে না।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, সম্প্রতি যে আইপিওগুলো অনুমোদন হয়েছে। প্রত্যেকটি কোম্পানির বয়স ২০, ৩০, ৪০ বছর এবং এরা সাসটেইনেবল (ভালো)। যে সব কোম্পানির অস্তিত্ব নাই, অফিস নাই, বাজারে এসে বিনিয়োগকারীর টাকা নিয়ে চলে যায়, বাজারে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের ডেকে আনা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। সামনে হয়ত এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মোঃ শাকিল রিজভী  বলেন, শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিএসইসি সম্প্রতি বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার পাশাপাশি বেশকিছু কোম্পানির আইপিও বাতিল করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন সাহসী ভূমিকা আগে দেখা যায়নি। এ কারণে বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। যার সুফল এখন দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজার যে ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে, এটা ধরে রাখতে বিএসইসির সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বাজারে যাতে দুর্বল কোম্পানি আসতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভাল ভাল কোম্পানির আইপিও আনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে বাজারের বর্তমান চিত্র দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ডিএসই’র অপর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বিএসইসির কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে পুঁজিবাজার খুব ভাল অবস্থানে রয়েছে। তবে এরপরও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের শিক্ষিত হতে হবে। তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং অধিকার আদায়ে সচেতন হতে হবে। গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা উচিত হবে না। বিনিয়োগকারীরা শিক্ষিত হলেই বাজারের ভিত শক্ত হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে শেয়ারবাজারে কোন সুশাসন ছিল না। একের পর এক বাজে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নিয়ে শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। যেসব নিরীক্ষক মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে শেয়ারবাজারে বাজে কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের শেয়ারবাজারে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।

এক মাসে বিও হিসাব বেড়েছে এক লাখ ॥ সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ নবেম্বর পর্যন্ত বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫টি, যা ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৮০২টিতে। অর্থাৎ গত এক মাসে বিও হিসাব বেড়েছে ১ লাখ ২৬৩টি।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর