শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
১৫৩

ধাপেরহাটে ঐতিহ্যবাহী পীরের হাটের বান্নি মেলা

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৯  

গাইবান্ধা জেলার ধাপেরহাটে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বান্নির মেলা। জেলার সাদুল্যাাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পীরেরহাটে ৪১ পীরের পুণ্যভূমিতে বসে এই বান্নির মেলা। 

 

মেলা উপলক্ষ্যে ধাপেরহাট এবং আশেপাশের গ্রামগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দূর দূরান্ত থেকে এসব গ্রামের মানুষদের আত্মীয় স্বজন বিশেষ করে মেয়েরা নাইওরী ও পুত্র বধুদের আত্মীয় স্বজনদের অন্ততঃ এক সপ্তাহ আগেই নিমন্ত্রণ করে আনা হয়েছে।

 

আজ ২০ এপ্রিল শনিবার সকাল থেকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার পূর্বদিকে বসেছে এ মেলা। ইতোমধ্যে কয়েকদিন আগে থেকেই এ মেলায় জমায়েত হয়েছে কয়েক হাজার দর্শনার্থী। মেলায় বিভিন্ন পণ্যের পসড়া সাজিয়ে বসেছে দোকানীরা। 

 

মনোহারি, পাকা মিষ্টি, দই-খই, হুরুম-বাতাসার দোকানসহ, ডালা, কুলা, বেত শিল্পের তৈরি বিভিন্ন গ্রামীন জিনিষপত্র, রসুন, কাঠের আসবাবপত্র, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, ঘুড়ী এবং কামারেরা তাদের হাতের তৈরি জিনিষ নিয়ে বসে গেছেন মেলা প্রাঙ্গনে। লক্ষাধিক মানুষের আনাগোনায় মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গন।

 

এবারে সরকারিভাবে এ বছরের জন্য মেলাটির ইজারা নিয়েছেন ওই এলাকার আশিকুরজামান রিমেল। তিনি বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষার্থে চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসন অপ্রতুল। ফলে এবারের মেলা নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছেন বলে জানান।

 

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) আরশেদুল হক বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটি সফল করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। যাতে করে কনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ৪ তরিকার বিভিন্ন পীর-দরবেশ-আউলিয়ারা এখানে একত্রিত হয়ে বৈঠক করতো বলে এ স্থানের নাম হয়েছে পীরেরহাট। একটি পবিত্র স্থান এই পীরেরহাট। কিংবদন্তী আছে এখানে ৪১ জন পীরের মাজার রয়েছে। 

 

পীরেরহাট মাজার কত বছর আগে স্থাপিত হয়েছে তার কোন সঠিক দিন-তারিখ খুজে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, প্রায় ৩ একর খাস জমির উপর পীরেরহাট অবস্থিত। জ্বীন, পরীর আস্তনাসহ একটি মসজিদ, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বিশাল ঈদগাহ মাঠ, একটি দরগা শরীফ, বিশাল আকারের কয়েকটি শতবর্ষী বট গাছসহ মাঝখানে রয়েছে একটি কেরামতি পুকুর। 

 

বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ রোগ নিরাময়ের ঔষধ হিসাবে যুগ যুগ ধরে এই পুকুরের পানি পান করে আসছেন। পানির রং ঘোলা হলেও কেউ তা ঘৃণার চোখে দেখছেন না।

 

ছিমছাম পরিচ্ছন্ন এই পীরেরহাটে অনেকেই আসেন অবকাশ সময় কাটাতে। এক সময় এখানে হাট-বাজার বসতো, সময়ে ব্যবধানে তা বিলীন হয়ে গেছে। এখন বছরে চৈত্র মাসের শেষে অষ্টমির পরে বৈশাখের প্রথম শনিবার একদিনের এই বান্নির মেলা বসে। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়। এ ছাড়াও বছর শেষে মহররম মাসের ১০ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয় এখানে। ওরসে শত শত জটাধারী, দরবেশ, সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
এই বিভাগের আরো খবর