• শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৩ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

নাট্যকার আবুল মুনছুর খান দুলাল নয়ানগর ইউপি’র চেয়ারম্যান হতে চান

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২১  

জামালপুরের মেলান্দহের আবুল মুনছুর খান দুলাল ৫নং নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে চান। 

 

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আবুল মুনছুর খান দুলাল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ২৭ মার্চ রাত ৮টায় মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা ব্যক্ত করেন। 

 

একাধারে রাজনীতিক-নাট্যকর্মী হিসেবে দুলাল খান নামেই সূধিমহলের কাছে বেশ পরিচিত। বুরুঙ্গা গ্রামের মৃত নওশের আলীর ছেলে দুলাল খান নাট্যকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শিল্পকলা একাডেমি পুরষ্কারও অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার এবং গ্রæপ থিয়েটারের অঙ্গ সংগঠন শহীদ সমর থিয়েটারের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি ছিলেন-আসাদুল্লাহ ফারাজী। এ ছাড়াও তিনি গ্রæপ থিয়েটারের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।

 

বিটিভিসহ তিনি বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। নাট্যাভিনেতা হিসেবে এখনো তিনি এলাকায় পরিচিত জন। 

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত¡ বিভাগের কীংবদন্তী নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের হাত ধরে তিনি নাট্যাভিনয়ে পূর্ণতা অর্জন করেন। শহীদ সমর থিয়েটার আয়োজিত নাট্যকর্মী তৈরিতে তিনি নাট্য প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের আলোচিত নাট্যজন আসাদুল্লাহ ফারাজীর সমসাময়িক অভিনেতা।

 

নাট্যজগত ছাড়াও তিনি মেলান্দহ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতাই নন; কর্মীও। ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগের বিভিন্ন পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগেরও বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মেলান্দহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। 

 

রাজনৈতিক জীবনে তিনি এরশাদ পতন আন্দোলনে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের মূখ্য ভূমিকা রাখেন। 

 

এতেই শেষনয়, দুলাল খান বিএনপি’র আমলে সার-তেলের জন্য কৃষকের হাহাকারের সময় তিনি কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এ সময় সারের জন্য কৃষক হত্যার বিচারের দাবিতেও স্বোচ্চার ভূমিকা রাখেন। আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখার দায়ে একাধিক মামলা-হামলার শিকার হন। আওয়ামী রাজনীতির প্রতিষ্ঠায় উপজেলা সদরের পাশা পাশি গ্রামেগঞ্জের মিছিল-মিটিংয়েও তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন।

 

দুলাল খানের বড় ভাই হায়দার আলী খান নয়ানগর ইউপি’র মেম্বার নির্বাচিত হয়ে দুুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন। তাঁর দাদা সাদি খান ছিলেন-তৎকালীন গৌরিপুর জমিদারের বিশ^স্থ কর্মচারি। পাক-ভারত যুদ্ধে তীরন্দাজ হিসেবে সাদি খান বেশ আলোচিত ছিলেন। জমিদারি প্রথা বাতিলের সময় সাদি খান জোতদারি পান। দুলাল খানের ছোট বোন ফাতেমা খানম কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্রী।

 

দুলাল খানকে হঠাৎ চেয়ারম্যান হবার ইচ্ছা পোষণের কারন জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি জানান-সুদের টাকায় এক বৃদ্ধ মহিলার বয়ষ্ক ভাতার কার্ড পাবার লোমহর্ষক বিবরণ জানতে পাই। এরপর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চেয়ারম্যান হবার প্রত্যয় জাগে। এটি চ্যালেঞ্জিং হলেও আমি সফল হবো। দলীয় মনোনয়ন না পেলে কি করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দুলাল খান বলেন-দলীয় মনোনয়ন যাকে দিবে আমি তার হয়ে কাজ করবো। তবে আমি দলীয় মনোনয়ন পাবার আশাবাদী। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন-মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং করি। কিন্তু অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হবার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম বাবুসহ বেশ ক’জন ছাত্র-যুবক মেলান্দহ টিটিডিসি মাঠে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর