• সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭

  • || ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

প্রতিদিন ডিম খাওয়ার ফলে বাড়ছে যেসব রোগের ঝুঁকি

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২০  

আমরা অনেকেই আছি সকালের নাস্তায় নিয়মিত ডিম খাই। আবার যারা ডায়েট করতে গিয়ে ভাতের পাঠ চুকিয়েছেন। তারা তো দিনে তিন থেকে চারটি ডিমও খান। সুপার ফুড এই ডিমের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। একটি ডিম আপনার শরীরে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করবে।

তবে প্রতিদিন ডিম খাওয়া অনেকের জন্যই ভালো না। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন একটি ডিম খেলে ডায়াবেটিস টাইপ-২’তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় শতকরা ৬০ ভাগ। গবেষকরা চীনের প্রাপ্ত বয়স্ক ৮৫৪৫ জন নাগরিকের ওপর গবেষণা চালান। এতে তারা দেখতে পান, বেশি পরিমাণে ডিম খাওয়ার সঙ্গে রক্তে উচ্চ মাত্রায় চিনির উপস্থিতি বেড়ে যায়। 

 

একে পরিসংখ্যানের ভাষায় বলা হয় পজেটিভ কো-রিলেশন। এতে আরো বলা হয়, ডিম সব রকম গুণসমৃদ্ধ এবং এতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান আছে। ফলে বৃটেনসহ বিভিন্ন দেশে এটাকে স্বাস্থ্য উপযোগী ফাস্ট ফুড হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা পুরনো।

 

তবে শুধু হতাশাই নয় আশার কথাও জানাচ্ছেন গবেষকরাতাদের মতে, বয়েল, পোচ বা ভেজে যেভাবেই ডিম খান না কেন, প্রতিদিন যদি একটি ডিম খান কেউ, তাহলে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বড় ঝুঁকিতে থাকবেন। 

 

এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গবেষক, গবেষণার লেখক ড. মিং লি বলেছেন, অনেক সময় ডিম খাওয়া ও তার সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক করা হয়। তবে তারা গবেষণায় যেসব ব্যক্তিকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়েছেন তারা দীর্ঘদিন ডিম খান এবং পরীক্ষায় তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে বলে দেখা গেছে। 

 

এই গবেষণাটিতে চীনা মানুষের জীবনধারার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। কারণ সেখানকার মানুষ শস্য জাতীয় খাবার বা শাকসবজি তেমন একটা খান না। তাদের খাদ্য তালিকায় বেশি থাকে মাংস, স্নাকস এবং ডিম। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চীনে ডিম খাওয়ার সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সালে পর্যন্ত তারা ১৬ গ্রাম ডিম খেতেন। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সেই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ গ্রাম। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ৩১ গ্রাম।

 

২০১৯ সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসায় খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৭৬০০০ কোটি ডলার। সারাবিশ্বে মোট স্বাস্থ্যখাতে খরচের শতকরা ১০ ভাগ হলো এই অর্থ। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা খাতে খরচ ছাড়িয়ে গেছে ১০৯০০ কোটি ডলার। ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চায়না হেলথ এন্ড নিউট্রিশন সার্ভেতে যে ৮৫৪৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ গিয়েছেন তাদের ওপর ডাটা বিশ্লেষণ করেছেন ড. লি এবং তার টিম। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের সমর্থনে জরিপ পরিচালনা করছে চায়না হেলথ এন্ড নিউট্রিশন সার্ভে। তারা চীনে স্বাস্থ্যনীতি এবং পুষ্টির বিষয় দেখাশোনা করে। 

 

টাইপ-১ ডায়াবেটিস

এই ধরনের ডায়াবেটিসে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আক্রান্ত হয় এবং ইনসুলিন সৃষ্টিকারী কোষকে ধ্বংস করে দেয়। এই ইনসুলিন আমাদের শরীরের গ্লুকোজকে বিপাক প্রক্রিয়ায় ভেঙে শক্তিতে পরিণত করে।

 

টাইপ-২ ডায়াবেটিস

এক্ষেত্রে শরীরে পর্যন্ত পরিমাণ ইনসুলিন উৎপান্ন হয় না। অথবা শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। টাইপ-১ এর চেয়ে ডায়াবেটিস-২ বেশি মানুষের দেখা যায়। বৃটেনে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে।  

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর