• শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৩ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

ফজীলতপূর্ণ রজনী শবে বরাত আজ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২১  

আরবী বার মাসের একটি হল শাবান মাস। এর পরেই রহমত, মাগফেরাত এর মাস রমজান। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব,শাবান মাস থেকেই আমল আরো বেশি বাড়িয়ে দিতেন। 

 

শাবান মাসের একটি বিশেষ রজনী ১৪ তারিখ দিবাগত রাত।যেটিকে আমরা শবে বরাত বলি। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমীনের জন্য ক্ষমা পাওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ। 

 

তাই সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এই ফজীলতপূর্ণ রাতে ক্ষমা পাওয়ার লক্ষ্যে যথাসম্ভব  ইবাদত করা। ইদানিং অনেকেই শবে বরাতে কে বিদআত বলতে চেষ্টা করেন কিংবা শবে বরাতকে কেন্দ্র করে এমনসব রুসম রেওয়াজ চালু করেন যা ইসলামী শরীয়তের সাথে সামঞ্জস্য রাখেনা।

 

আর যারা বলেন শবে বরাত হাদীসে নেই তাদের জন্য জানা উচিত নামাজ,রোজা ফার্সি শব্দ যেমন কিয়ামত পর্যন্ত কুরআন হাদীসে খুঁজলে পাওয়া যাবেনা তাই বলে নামাজ, রোজা অস্বীকার করা যাবে!!? আরবীতে নামাজ হল সালাত, রোজা হল সওম, তেমনি শবে বরাত ফার্সি শব্দ তাই হাদীসে শবে বরাত পাওয়া যাবেনা বরং হাদীসে এসেছে (লায়লাতুম মিন নিসফি শা'বান) অর্ধ শাবান এর রজনী।

 

আসুন হাদীসের আলোকে শবে বরাত এবং এই রাতে করনীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে জেনে নিই।

১.

হযরত আলী বিন আবু তালীব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন-কোন গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত। {সূনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮২২}

 

২.

-হযরত আয়শা রাঃ বলেন-এক রাতে রাসূল সাঃ কে না পেয়ে খুজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনার কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন-কি ব্যাপার আয়শা? [তুমি যে তালাশে বের হলে?] তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? [তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?] হযরত আয়শা রাঃ বললেন- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূল সাঃ তখন বললেন-যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯}

৩.

-হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-১৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪

 

শবে বরাতের রাতে যে আমলগুলো করব

*****************

১. ইস্তেগফার তথা বেশি বেশি আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফের জন্য দুআ করা।

২. অনির্ধারিত নফল ইবাদত

অর্থাৎ অন্যসময় যেভাবে নফল নামাজ পড়ি সেভাবেই আদায় করা। শবে বরাতের নামাজ কিংবা বিশেষ পদ্ধতিতে কোন নামাজ নেই।

৩. পরদিন ১৫ ই শাবান রোজা রাখা তবে এরচেয়ে উত্তম হল আইয়্যামে বীজ তথা প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ রোজা রাখা।

৪. কবরবাসীদের জন্য দুআ করা।

 

সতর্কতাঃ

গোনাহ মাফের এ রজনীতে সকল মানুষকে ক্ষমা করলেও আল্লাহ দুই ধরনের ব্যাক্তিদের ক্ষমা করেননা

১. যারা মুশরিক তথা যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে।

২. যারা অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে।

 

শবে বরাতে যা বর্জনীয়

*******************

১. আতশবাজি, হট্টগোল,আড্ডাবাজি থেকে বিরত থাকা।

২. ফরজ ইবাদত মসজিদে আদায় করে সম্ভব হলে নফল ইবাদতগুলো বাড়িতেই আদায় করা।

৩. হালুয়া রুটি কিংবা খিচুড়ির ডেগ নিয়ে ব্যাস্ত না থেকে মহান আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করতে থাকা।

কারন এসব কাজে ব্যাস্ত থাকার কারনে একটি সিজদা দেওয়ারও সময় হয়না।

 

শেষকথা আসুন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত লায়লাতুন নিসফি মিন শাবান তথা শবে বরাতে সকল রুসম রেওয়াজ পরিহার করে ইবাদত করার চেষ্টা করি সেইসাথে  নিজের জন্য,পিতামাতা,আত্মীয়স্বজন,প্রতিবেশী সমস্ত উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য মাগফিরাত এর দুআ করি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমলের তৌফিক দান করুন আমীন।  

 

মুফতী জাকির হোসাইন

খতিব,বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ,

বকশীগঞ্জ, জামালপুর।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর