• মঙ্গলবার   ২২ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৮ ১৪২৮

  • || ১১ জ্বিলকদ ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

বকশীগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানের পর জনমনে স্বস্তি!

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৮ মে ২০২১  

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় র‌্যাবের অভিযানের পর জনমনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে র‌্যাবের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকবাসী।

 

খোঁজ নিয়ে জান গেছে, ৫ মে বুধবার দুপুরে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নগদ অর্থ বিতরণ করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। পরিষদের ভেতরেই এক নারী কর্মী সমাজসেবা দপ্তরের বয়স্ক ভাতার উপকারভোগীদের হিসাব খোলার কাজ করছিলেন।

 

এ সময় স্থানীয় খান পাড়া গ্রামের বাবলু খানের ছেলে মিনাল খান ওই নারী কর্মীকে উত্ত্যেক্ত করেন। বার বার উত্ত্যেক্তের শিকার হলে ওই নারী কর্মী ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে বিষয়টি অবগত করেন।

 

ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু বিষয়টি নিয়ে মিনাল খানের সাথে কথা বলতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং মিনাল খানকে একটি চড় মারেন। এতে মিনাল খান ক্ষিপ্ত হয়ে তার গ্রামের লোকজন নিয়ে কিছক্ষণ পরেই  ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন।

 

শুধু হামলায় নয় চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে দীর্ঘক্ষণ একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং অবরুদ্ধ থাকা চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করেন। 

 

প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা বিতরণকালে ইউপি ভবনে হামলার ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। 

 

শুধু তাই নয় হামলা ,ভাঙচুরের পর তারা স্থানীয় দাসের হাট নামে একটি বাজারে উল্লাসও করেন। এঘটনার পর পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। 

 

বুধবার রাতেইু র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিন (র‌্যাব)-১৪ এর জামালপুর ও ময়মনসিংহের একটি দল খান পাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের পর আল আমিন খান ও শাহীন খানকে আটক করেন র‌্যাব সদস্যরা। 

 

অভিযানের পর প্রশংসায় ভাসছেন র‌্যাব-১৪। তারা র‌্যাবের এই অভিযানকে স্বাগত জানান এবং জনগণের পাশে থাকার জন্য র‌্যাবকে ধন্যবাদ জানান। 

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, র‌্যাবের অভিযানের পর মানুষের মধ্যে যে আতঙ্কিত ছিল তা কিছুটা কেটে গেছে। এখন তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কারণ আজ পর্যন্ত ওই গ্রামের আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কেউ কথার সাহস পান নি।

 

তাদের অত্যাচারের কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন নি। র‌্যাব যে কাজ করেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বাকিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে অভিযুক্তরা আরো বেপরোয়া হতে পারে। 

 

এ বিষয়ে সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু জানান, অভিযানের পর মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তিনি সরকারি স্থাপনায় জড়িতের দ্রæত গ্রেপ্তার দাবি করছি। তিনি আরো বলেন, আমি সহ আমার ইউপি সচিবকে মোবাইলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর