মঙ্গলবার   ২১ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৭ ১৪২৬   ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
৬২

বর্জ্য এখন দেশের সম্পদ

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর ২০১৯  

দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহৃত বর্জ্য সবসময় অবহেলিত ছিল। তবে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সেই বর্জ্য এখন সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে। যেটি করছে যশোর পৌরসভা। এরইমধ্যে পৌরসভার পরিচালিত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ফেলে দেয়া বর্জ্য থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে ৮০০ কেজি থেকে এক টন পর্যন্ত জৈব সার, ৪০০ কিউবিক মিটার বায়োগ্যাস ও ২০০ কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ। 
যশোর পৌরসভার তথ্যানুযায়ী, শহরতলীর ঝুমঝুমপুর ভাগাড়ের ১৩ দশমিক ৯৭ একর (প্রায় ৪০ বিঘা) জমিতে তৈরি হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্স রিকভারি ফ্যাসিলিটি’ প্রকল্প। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ২৩ কোটি টাকা। যেটি ‘সিটি রিজিওন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের’ আওতায় উপ-প্রকল্প। মূল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিলের পাশাপাশি সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) ও সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি (সিডা)। আর এটি দেশের মধ্যে প্রথম বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার কার্যক্রম। 


 
প্রকল্পের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যে পরিমাণ বর্জ্য প্রকল্পটিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব, সে তুলনায় প্রতিদিন তা আসছে না। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে আরো দ্বিগুণের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকাল ৬ টা থেকে সারাদিন পৌরসভার বেশ কয়েকটি ট্রাক বর্জ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেটি ওজন স্টেশনে ওজনের পর স্টোরেজে নেয়া হয়। সেখানে বর্জ্যগুলো বাছাই করেন প্রকল্পের কর্মীরা। এরপর সেখান থেকে পচনশীল দ্রব্য (তরকারি, ফলমূলের খোসা, ঘাস, পাতা) জৈব সার প্ল্যান্টে চলে যায়। সেখানে মেশিনের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার প্রস্তুতের জন্যে উপযোগী করা হয়। পরে ২৮ দিনে এগুলো উপযুক্ত জৈব সারে পরিণত হয়। এরপর বয়লার মেশিনে শুকানোর পর ছেঁকে ব্যবহার উপযোগী জৈব সার প্যাকেটজাত করা হয়।

প্রকল্পের সুপারভাইজার আরো বলেন, বাকি অংশ চলে যায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে। অপরদিকে, মানুষের মল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল অংশ ও শুকনো অংশ বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে পাঠানো হয়। এখানে চার থেকে পাঁচদিন রাখা হয়। সেখান থেকে বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়। আর বাকি অংশ জৈব সার হয়। পরে উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। সেখানে তিনটি জেনারেটর রয়েছে। উৎপাদিত ২০০ কিলোওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ গোটা প্ল্যান্ট এরিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

যশোরের পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প নির্মাণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  যেটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়ন হয়। 


 
তিনি আরো বলেন, যে পরিমাণ বর্জ্য এখানে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব, সে তুলনায় প্রতিদিন অর্ধেক আসছে। প্রয়োজনীয় বর্জ্য দিতে ঝিকরগাছা পৌর কর্তৃপক্ষ রাজি হয়েছিল। কিন্তু তারা দেয়নি। এখনো সার বিক্রির ব্যবস্থা হয়নি। শিগগিরই প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও দাম নির্ধারণ করে তা বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে অপচনশীল দ্রব্যের বিকল্প ব্যবহারের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
এই বিভাগের আরো খবর