• বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৩ ১৪২৮

  • || ২৩ রমজান ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

বসুন্ধরার ৩১ কোটি টাকার হাসপাতাল উধাও, আসলেই সত্য নাকি গুজব!

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১  

বসুন্ধরার ৩১ কোটি টাকার হাসপাতাল উধাও, আসলেই সত্য নাকি গুজব! আসুন জেনে নেই। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমন শুরু হওয়ার পর গত বছর বসুন্ধরাসহ কয়েকটি জায়গায় কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে অস্থায়ী হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়। 

 

সম্প্রতি বসুন্ধরার যে হাসপাতালটি উধাও হয়ে গেছে বলা হচ্ছে, এটি মূলত হাসপাতাল ছিল না। এটি ছিল একটি আইসোলেশন সেন্টার। করোনা দুর্যোগ মোকাবেলা করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৭ মে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশনাল সেন্টারকে সরকার চুক্তিভিত্তিক মাসে ৭ লক্ষ টাকা ভাড়া নিয়ে সেটিকে আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে প্রস্তত করে। পৃথিবীর আর কোন দেশ এতো অল্প সময়ে এতবড় আইসোলেশন সেন্টার তৈরী করতে পারিনি। 

 

পরবর্তীতে কোভিড আক্রান্ত রোগীরা নিজ বাসাতে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার কারনে এই আইসোলেশন সেন্টার অলস পরে থাকে। অর্থ্যাৎ চালু হওয়ার পর থেকে একজন রোগিও যায়নি। অন্যদিকে আইসোলেশন সেন্টারটি অলস পরে থাকায় সরকার বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছিল। 

 

আপনি কি মনে করেন, বসে বসে সরকারের আর্থিক এই ক্ষতি গুনা উচিত ছিল?

 

বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টারটিতে ১৫০ জন চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি খরচ, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা বিল দিতে হতো। রোগী না পাওয়ায় ও অপচয় রোধে সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য উপ-সচিব ড. বিলকিস বেগমের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বসুন্ধরার আইসোলেশন সেন্টারটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়। এবং ঐ আইসোলেশন সেন্টারের বেডসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জনবল সারাদেশে বিভিন্ন জেলা মেডিকেল হাসপাতালে সরবরাহ ও পূনঃবন্টন করা হয়। 

 

একইভাবে মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটে ইউনিসেফের অর্থায়নে ডাক্তারদের জন্য ২০০ বেডের যে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল, কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি ও আক্রান্তের হার কমে আসায় সেটিও পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে করোনার মহামারি প্রকোপ আবারও বৃদ্ধি পেলে, সরকার ডিএনসিসির মার্টেকের এই হাসপাতালকে পূণরায় চালূ করে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সরকারি অর্থায়নে সেখানে হচ্ছে ১০০০ বেডের হাসপাতাল। সেই সাথে একই ভবনে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। 

 

হাসপাতালটি তৈরিতে ইউনিসেফসহ জাতি সংঘের বিভিন্ন সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করছে। জরুরী পরিস্থিতিতে সেবা দেওয়ার জন্য তৈরী করা অস্থায়ী স্থাপনার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সেটি আবার ভেঙ্গে ফেলাই স্বাভাবিক চর্চা। 

 

এই যখন পরিস্থিতি, তখন গায়েব বা উধাওয়ের মত গাঁজাখুরি তত্ব আসে কিভাবে? 

 

একাত্তর টিভির বিএনপি বিডের সাংবাদিক শফিক আহমেদ তার রিপোর্টে তিনি দাবি করেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেখানে দাড়িয়ে কথা বলছেন, তার উপরেই ডিএনসিসি’র একটি হাসপাতাল পরিত্যক্ত হয়ে পরে আছে। যেটি একটি উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ডাহা মিথ্যা। কারন বাস্তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেখানে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন তার উপরে ছিল ছাঁদ। আর যেখানে দাড়িয়ে কথা বলছিলেন সেটিই হচ্ছে ডিএনসিসি মার্কেটের সেই ২ শত শয্যার হাসপাতাল। যেটিতে সরকার ১ হাজার শয্যার উন্নিত করার কাজ করছে। যা থেকে স্পস্ট প্রমানিত হয় যে, আইসোলেশন সেন্টার এবং হাসপাতালের পার্থক্য নেই জানা এই সাংবাদিক শফিক আহমেদ কোন বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যেই কি এই মিথ্যা প্রতিবেদনটা প্রকাশ করেন? 

 

কি হতে পারে সেই এজেন্ডা? কেনই বা তার এই মিথ্যাচার? কেই বা এই সাংবাদিক শফিক আহমেদ?

একাত্তোর টিভির বিএনপি বিডের সাংবাদিক শফিক আহমেদ ছাত্র জিবনে জড়িত ছিল বিএনপি’র রাজনীতির সাথে। ২০১৪-১৫ সালে বিএনপি’র জ্বালাও-পুড়াও আন্দোলনের সময় বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি যখন লাদেন স্টাইলে পার্টি অফিসের ভেতর থেকে ভিডিও বার্তা দিতো, তখন তার সাথে থাকা এক সাংবাদিক আটক হয়েছিল। নিশ্চয় মনে আছে আপনাদের। এই সেই সাংবাদিক শফিক আহমেদ যে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের বিনিময়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরী করে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। 

 

তাই আসুন করোনা মহমারি প্রতিরোধে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হই। 

 

লেখক 

সচেতন নাগরিক। 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর