শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর

ইসলামপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

জামালপুরের ইসলামপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। একাত্তুরের এইদিনে বাংলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসলামপুর উপজেলায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

 

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানামোড় বটতলা চত্তরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহহমানের সভাপতিত্বে, সাবেক কমান্ডার মানিকুল ইসলাম মানিক,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আঃ খালেক আকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাদত হোসেন স্বাধীন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবু নাছের চৌধুরী চার্লেস,যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন আহমদ,থানা তদন্ত কর্মকর্তা আনছার উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর আলম,সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউল হক জুয়েল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

 

অন্যানের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন স্বাধীন বলেন-ইসলামপুর উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ ফকিরপাড়া গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে মুজাহিদ বাহিনীর ১০০ সদস্যকে সংগঠিত করে ইসলামপুর জেজেকেএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংগঠিত হয়ে মেঘালয় রাজ্যে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে কোম্পানীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ইসলামপুর থানাধীন সিরাজাবাদ এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদীর পাড়ে আখ ক্ষেতে একটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।সেখান থেকেই গেরিলা যুদ্ধ চালানো হয় । সেই কোম্পানীর নাম জালাল বাহিনী হিসাবে পরিচিত হয় । মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জালাল বাহিনীর সদস্যরা ইসলামপুরে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প দখলের উদ্দ্যেশে ৬ডিসেম্বর দুপুরে ইসলামপুরের পলবান্ধা ইউনিয়নের পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন সিরাজাবাদ রোডে অবস্থান নিয়ে চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে হানাদার ক্যাম্পে চারিদিক থেকে আক্রমণ চালায় । সেদিন দুপুর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত একটানা যুদ্ধ হয় । সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে টিকতে না পেরে হানাদার বাহিনী অস্ত্র,গোলাবারুদ সহ অন্যান্য জিনিষপত্র ফেলে স্পেশাল ট্রেনযোগে জামালপুরের দিকে পালিয়ে যায় । হানাদার বাহিনী ইসলামপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঝিনাই ব্রীজসহ তিনটি রেল ব্রীজ ধ্বংস করে জামালপুর পর্যন্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ।হানাদার বাহিনী ইসলামপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১ টায় ইসলামপুর থানা প্রশাসন,আওয়ামীলীগ নেতা সহ হাজারও মুক্তিকামী জনতা আনন্দ উল্লাস করে ইসলামপুর থানা চত্বরে সমবেত হয় ।সেই সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ইসলামপুরের মাটিতে প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই দিন থেকেই ইসলামপুরের মাটি শত্রু মুক্ত হয় ।

 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
এই বিভাগের আরো খবর