• বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১১ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

ভেদুরিয়া বিলে জলাবদ্ধতা, বছরে ৪০ লাখ টাকার ফসল থেকে বঞ্চিত কৃষক

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২০  

উল্লাপাড়ার শাহজাহানপুর গ্রামের পাশে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ভেদুরিয়া বিলে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। শুধু ইরি বোরো মৌসুমে একবার ধান উৎপাদন করতে পারছেন বিলের জমির মালিকগণ।  

 

স্থানীয় কৃষি বিভাগের জরিপে এই বিলের মালিকেরা বছরে ৪০ লাখ টাকার ফসল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ৫’শ ফুট  দীর্ঘ একটি খাল খনন করা সম্ভব হলে পানি নিস্কাশনের মাধ্যমে বিলের জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন সম্ভব হতো। 

 

শাহজাহানপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, বরাত আলী, ঘাটিনা গ্রামের মোঃ সজল, মবিল উদ্দিন, হাবিবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল হালিমসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, বেশ কয়েক যুগ ধরে ভেদুরিয়া বিলে বছরের ৮ মাস পানিপূর্ণ থাকে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিলের অন্ততঃ ৫০ জন জমির মালিক কৃষকেরা বছরে একবার ফসল উৎপাদন করতে পারছেন। শাহজাহানপুর গ্রামের দক্ষিনে করতোয়া খালের সঙ্গে একটি পানি নিস্কাশন খাল খনন করা সম্ভব হলে বিলের জলাবদ্ধতা দুর করা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সংশ্লিষ্ট সলপ ইউনিয়ন পরিষদ ও উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে এ ব্যাপারে আবেদন নিবেদন করেও কোন ফল পাননি। ফলে বছরে দুটি করে ফসল উৎপাদন করার কোন সুযোগ নেই তাদের। 

 

অভিযোগকারীরা আরো জানান, বিলের দক্ষিণ পাশে প্রস্তাবিত নিস্কাশন খালের জমিগুলো সবই ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় নিস্কাশন খাল খনন দুরুহ হয়ে পড়েছে। বিলের পানি বের হবার কোন পথ না থাকায় পুরো বিল জুড়ে কচুরি পানায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে। ফলে ইরি বোরো মৌসুমে চাষাবাদের সময় তাদেরকে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে কচুরিপানা অপসারন করতে হয়। এসব কৃষক অবিলম্বে ভেদুরিয়া বিল থেকে পার্শ্ববর্তী করতোয়া খাল পর্যন্ত একটি পানি নিস্কাশন খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। 

 

এ ব্যাপারে সলপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকাত ওসমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি ভেদুরিয়া বিলে জমির মালিকদের দুভোর্গের কথা স্বীকার করে জানান, পানি নিস্কাশন খাল খননের প্রস্তাবিত জায়গাগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। এদের সঙ্গে কথা বলে স্বল্পমূল্যে তাদের জায়গা নেবার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সহকারী উদ্ভিদ  সংরক্ষণ কর্মকর্তা আজমল হক জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি এবং তিনি ভেদুরিয়া বিল পরিদর্শন করেছেন। এখানকার জমি মালিকরা প্রতিবছর কৃষি দপ্তরের জরিপ অনুযায়ী ৪০ লাখ টাকার ফসল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ এখানে পানি নিস্কাশনের ব্যাপারে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দুর করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 

 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর