ব্রেকিং:
সেনাবাহিনী আজ থেকে দেশের সকল স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারান্টিন এর বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে। সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলী অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- আইএসপিআর
  • শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৯ ১৪২৬

  • || ০৯ শা'বান ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
৬৫

মহামারিতে মারা যাওয়া মাইয়্যাতের গোসল ও জানাজার ইসলামি বিধান

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২০  

মহান সর্বশক্তিমান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের ওপর কষ্টকর কোনো বিধান চাপিয়ে দেন না বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে বলেছেন,

‘আল্লাহ তায়ালা কারো ওপর তার ক্ষমতার বাইরে দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৬)।

 

রাব্বুল আলামিন কোরআনুল কারিমে আরো ইরশাদ করেন,

 

‘আল্লাহ তায়ালা চান তোমাদের বোঝা হালকা করে দিতে এবং মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সূরা: নিসা, আয়াত: ২৭)।

 

ইসলামি বিধান অনুযায়ী সাধারণত কোনো মুসলমান মারা গেলে উপস্থিত মুসলিমদের ওপর ওই মৃত ব্যক্তির গোসল, জানাজা ও দাফন করা ফরজে কেফায়া। কিন্তু মুসলমানদের মধ্যে কেউ যদি মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তবে ইসলামের বিধান বা মূলনীতি কী হবে?

 

বর্তমান সময়ে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ওই ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, জানাজা দেয়া এবং দাফন করা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। এ ক্ষেত্রে আমরা ইসলামের বিধান বা মূলনীতি জেনে নিই-

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, জানাজা ও দাফনে সংক্রমণ হয়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

তাই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের কথা বিবেচনা করে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির গোসল দেয়া, জানাজা ও দাফনের মূলনীতি হলো-

 

হাদিসে মহামারিতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে শহিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তি ঈমানদার হলে সেও শহিদি মর্যাদা লাভ করবে। আর এ ব্যক্তিকে শহিদ হিসেবে মনে করে গোসল, জানাজা না দিয়েই দাফন করা যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ আলেমরা। অনেক ওলামায়ে কেরাম বলেছেন,

 

‘যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেন যে, করোনা বা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কারণে ওই মৃত ব্যক্তির শরীরে এ ভাইরাস রয়েছে এবং তার কাছাকাছি গেলে, তার গোসল দিলে কিংবা তার জানাজা দিলে অন্য সুস্থ ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে বা প্রাণনাশের আশংকা রয়েছে তবে সে ক্ষেত্রে গোসল, জানাজা স্থগিত হতে পারে।’

 

ইসলামের বিধান বা মূলনীতি-

 

মহামারি করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কোনো সামাজিক কিংবা ধর্মীয় জনসমাগমে যাওয়া যেমন বৈধ নয়, তেমনি অন্য মুসলমানের ক্ষতি বা কষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এমন মৃত ব্যক্তির গোসল, জানাজা ও কাফন দেয়া ছাড়া দাফনেও কোনো বাধা নেই। কেননা, মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতি হলো-

 

‘যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সূরা: আহজাব, আয়াত: ৫৮)।

 

 لا ضرر ولا ضرار

(নিজে) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও (অন্যকে) ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো অবকাশ নেই।

 

أن الضرر يدفع قدر الإمكان

যতটা সম্ভব ক্ষয়-ক্ষতি প্রতিহত করতে হবে।

 

কষ্টকর বিধান সহজ বিধানকে আকর্ষণ করে।

 

ওজরের কারণে।

 

এছাড়া মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের ওপর কষ্টকর কোনো বিধান চাপিয়ে দেন না বলেও পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেন,

 

‘আল্লাহ তায়ালা কারো ওপর তার ক্ষমতার বাইরে দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৬)।

 

‘আল্লাহ তায়ালা চান তোমাদের বোঝা হালকা করে দিতে এবং মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সূরা: নিসা, আয়াত: ২৭)।

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের কথা চিন্তা করেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির গোসল ও জানাজা ছাড়াই দাফন করা যাবে বলেছেন ওলামায়ে কেরাম। আবার মৃত ব্যক্তিকে তায়াম্মুম দিয়ে, লাশ ছাড়াই গায়েবানা জানাজা দেয়া যাবে বলেছেন অনেকে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর