সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

দৈনিক জামালপুর
২৪০

“মোবাইল ফোন দিয়েছে” বলতে সরকার কি বলছে

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৯  

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যাসিফিক মোটরস ও ফার-ইস্ট টেলিকমের কর্ণধার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা মোর্শেদ খান। বিএনপির মুর্শেদ খানের মালিকানাধীন সিটিসেলের একটা মোবাইল সংযোগ নিতে প্রথম দিকে খরচ হতো তৎকালীন টাকায় এক থেকে দেড় লাখের উপরে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে চুটিয়ে মুঠোফোনের ব্যাবসা করেছে এই মুর্শেদ খান ও তার প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক মোটরস ও ফার - ইস্ট টেলিকম। কোন প্রতিযোগীতা নেই। মুঠোফোনের ব্যাবসায় কোন প্রতিদন্ধিতা নেই। একচেটিয়া ব্যাবসা করেছে মুর্শেদ খান। ফলাফল মাত্র গুটিকয়েক বিত্তবান ছাড়া  বাদবাকি বৃহত্তর জনসাধারণের কাছে মুঠোফোন ছিল স্রেফ স্বপ্ন।

তারপর ১৯৯৬ সালে সরকার পরিবর্তন হলো। ক্ষমতায় এলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। সিটিসেলের একক ব্যবসার পাশাপাশি ১৯৯৭ সালেই অনুমোদন পেল গ্রামীন ফোন এবং একটেল (বর্তমান রবি)। তৈরী হলো ব্যাবসায়িক প্রতিযোগীতা। অধিক গ্রাহক টানার প্রতিযোগীতায় হু হু করে কমতে শুরু করেছে কলরেট। সরকার ও জনগণের চাহিদার অনুপাতে প্রচুর আমদানী হতে থাকা মোবাইল ফোনের উপর ভ্যাট ট্যাক্সের বোঝা হালকা করে দিল। দ্রুত বাড়তে থাকলো মোবাইল ইউজারের সংখ্যা। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে চলে এলো মোবাইল ফোন ও কানেকশান।

অবশ্যই কৃতিত্বটা শেখ হাসিনার। সরকারের কাজ জনগণকে হাতে হাতে মোবাইল ফোন রিলিফ দেয়া নয়। সরকারের কাজ বেনিয়াদের একচেটিয়া মুনাফা রোধ করে জনগণের জন্য প্রযুক্তি ও পণ্যকে সহজলভ্য করে দেয়া। শেখ হাসিনা সেই কাজটি খুব ভালভাবে করেছিলেন। তাই, “হাতে মোবাইল পৌছে দিয়েছি” কিংবা “এই মোবাইল ফোন কে দিয়েছে?” কিংবা “মোবাইল ফোন সহজলভ্য করেছি” --- যেভাবেই বলুক না কেন, এই দাবীটা শেখ হাসিনার মুখে খুব সুন্দরভাবে মানায়। এটা নিয়ে ট্রলের কিছু নেই।
লেখক  ঃ সিয়াম সাদি

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর