• শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭

  • || ১৪ রজব ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২১  

রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস আজ ২৭ জানুয়ারি। এই বিদ্রোহের মহা নায়ক ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক জাতীয় নেতা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে মাওলানা আব্দুর তর্কবাগীশ পাঠাগার, সরকারি বেগম নূরুন্নাহার তর্কবাগীশ ডিগ্রি কলেজ, সলঙ্গা সমাজ কল্যাণ সমিতি, তর্কবাগীশ মহিলা মাদরাসা, তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয়, বিদ্রোহী সলঙ্গা ও সলঙ্গা ফোরাম সিরাজগঞ্জ পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র ও মাওলানা তর্কবাগীশ পাঠাগারের তথ্য মতে, ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনে জনতা উদ্বেলিত হয়ে বিদেশি পণ্য বর্জন করে স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের সংগ্রাম শুরু করেছিল। এমনি একটি আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সলঙ্গায়।

 

সেসময় তৎকালীন পাবনা জেলার এবং বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায় একটি ব্যবসায়িক জনপদ হিসেবে সপ্তাহে ২ দিন হাট বসত। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি শুক্রবার ছিল বড় হাট বার। মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা হাটে নামে বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। আর এ স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের রুখতে ছুটে আসে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের লেলিয়ে দেয়া পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আরএন দাস, জেলা পুলিশ সুপার ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রসাশক এসকে সিনহাসহ ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীওয়ালা পুলিশ।

 

সলঙ্গার গো হাটায় ছিল বিপ্লবী স্বদেশী কর্মীদের অফিস। পুলিশ কংগ্রেস অফিস ঘেরাও পূর্বক গ্রেফতার করে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা। জনতার ঢল ও আক্রোশ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। গুলিতে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটে আন্দোলনের কর্মীসহ সাড়ে ৪ হাজার সাধারণ হাটুরে জনতা শহীদ হন।

 

সেই হামলায় ৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র ১টি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি। রাইফেলটি ছিল একজন বাহ্মণ পুলিশের। এ ঘটনায় হতাহতের সরকারি সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার দেখানো হলেও বেসরকারি মতে ১০ হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়।

 

বিলেতি পণ্য বর্জনের আন্দোলনে মাওলানা আব্দুর রশিদ সলঙ্গা বিদ্রোহ উপনিবেশিক শাসনের ভিত নড়িয়ে দিয়েছিলেন। সলঙ্গার রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকে সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশকে।

 

মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ জানান, সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস একটি ইতিহাস। এই ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দিবসটি জাতীয় ভাবে পালন করা উচিত। সলঙ্গা বিদ্রোহে হত্যাকাণ্ডের যে ইতিহাস সেই ইতিহাস জালিয়ানওয়ালাবাগের ইতিহাসকেও হার মানিয়েছে।

 

তাই এই বিদ্রোহের মহানায়ক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৪ বছরের সফল সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের স্মৃতি রক্ষা, সলঙ্গার গোহাটায় সংগঠিত বিদ্রোহে যারা শহীদ হয়েছিল সেই সকল শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণসহ দিবসটি সলঙ্গা দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে ঘোষণার দাবি সলঙ্গাবাসীর।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর