• শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৩ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

দৈনিক জামালপুর

১০ লাখ টাকা হয়ে গেল ছাই, জামালপুরে কথিত দুই ‘জিনের বাদশা’ হাজতে

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১  

১০ লাখ ৩০ হাজার টাকার ব্যাগ বাড়িতে নিয়ে খুললেই হয়ে যাবে ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে ব্যাগের ভেতর পাওয়া গেল শুধু ছাই আর কাঁচের টুকরা। জিনের বাদশার এমন কেরামতির ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন জামালপুরের বিসিক শিল্পনগরীর ফার্নিচার কারখানা মালিক নাছির মিয়া। অভিনব এই প্রতারণার অভিযোগে জিনের বাদশারূপী নেত্রকোণার দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে জামালপুর সদর থানা পুলিশ।

 

গ্রেপ্তার দুই প্রতারক হলেন- নেত্রকোনা জেলা সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাইশদার গ্রামের মৃত হাসু মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম শান্ত (৩৫) এবং একই জেলা সদরের চল্লিশা গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল বারেক (৪৫)। তাদের মধ্যে তরিকুল জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। শাহবাজপুর বাজারে তার একটি টাইলস ও ফার্নিচারের দোকান রয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নাছির মিয়া নোয়াখালী জেলার মাইজদি উপজেলার চরবাঞ্ছারাম গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। জামালপুর বিসিক শিল্পনগরীতে নোয়াখালী ফার্নিচার মার্ট নামে তার একটি কারখানা রয়েছে। ফার্নিচার মালামালের ব্যবসার সূত্র ধরে প্রতারক তরিকুলের সাথে পরিচয় হয় নাছিরের। তরিকুল ব্যবসায়ী পরিচয়ের সূত্র ধরে নাছিরের কারখানা থেকে বাকিতে ৫৫ হাজার টাকার ফার্নিচার মালামাল ক্রয় করেন। নাছির আগের বকেয়া টাকা চাইলে তরিকুল নানান টালবাহানা শুরু করেন।

 

একপর্যায়ে কৌশলে নাছিরের সাথে আরো সখ্যতা গড়ে তুলেন তরিকুল। তরিকুল একদিন বিসিকে নাছিরের কারখানায় গিয়ে একজন জিনের বাদশার কেরামতিতে আসল টাকা দ্রুত সময়ে দ্বিগুণ টাকা হয়ে যাওয়ার লোভ দেখান। তরিকুল সেই ব্যবসায় অর্থলগ্নির প্রস্তাব দেন নাছিরকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দ্বিগুণ টাকা পাওয়ার লোভে পড়ে রাজি হয়ে যান নাছির। প্রতারক তরিকুল ও তার সহযোগী বারেক গত ৩১ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নাছিরকে শাহবাজপুর বাজারে তরিকুলের ফার্নিচারের দোকানে যেতে বলেন।

 

নাছির যথারীতি ১০ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তরিকুলের দোকানে যান। তখন তরিকুল ও তার সহযোগী বারেক টাকাগুলো নিয়ে দোকানের পাশে একটি কক্ষে যান। কিছুক্ষণ পরে তারা ওই কক্ষ থেকে একটি ব্যাগ হাতে বের হন। ব্যাগটি নাছিরের হাতে দিয়ে বলেন আজ রাত ১২টার পর এই ব্যাগ খুললেই দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থাৎ ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তাদের কথা মতো নাছির ব্যাগটি নিয়ে জামালপুরে নিজ বাসায় চলে আসেন। সারাদিন অপেক্ষার পর রাত ১২টার কয়েক মিনিট পর ব্যাগটি খুলে দেখেন তার ভেতরে শুধু ছাই আর কিছু কাঁচের টুকরা। টাকা নাই দেখে তার মাথায় হাত পড়ে।

 

প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী নাছির ৩ এপ্রিল প্রতারক তরিকুল ও বারেককে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ তাদেরকে জামালপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরের দিন ৪ এপ্রিল তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

মামলাটির তদন্তকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, প্রতারক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে স্বীকার করলেও মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তারা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

 

জামালপুর সদর থানার (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খান বলেন, গ্রেপ্তার তরিকুল ও খালেক সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে কথিত জিনের বাদশার রূপ ধারণসহ নানাভাবে তারা সাধারণ মানুষদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে সর্বস্বান্ত করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর