• শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৯ ১৪২৮

  • || ১৫ সফর ১৪৪৩

দৈনিক জামালপুর

ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে ঝুঁকছেন নাগরপুরের কৃষকরা

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২১  

ধীরে ধীরে দেশে সোনালি আঁশ পাটে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। কৃষকরাও পাটের ভাল দাম পেয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে পাট চাষে। গত বছর মৌসুমের শেষের দিকে পাটের দাম দাড়িয়েছিল মন প্রতি ৬০০০ টাকায়। দেশে গত বছর সোনালি ফসল পাটের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছেন। এছাড়া বিভিন্ন ফসলের চেয়ে পাটের জমিতে শ্রমিকের খরচসহ অন্যান্য খরচও কম। তাই বেশি লাভের আশায় এ উপজেলার কৃষকদের মাঝে পাট চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, প্রকৃতি ও বাজার পাট চাষিদের অনুকূলে থাকায় উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবছর কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর আবাদকৃত পাটগাছ কেটে কৃষকরা ইতিমধ্যে ঘরে তুলতে শুরু করেছে। এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। এই উপজেলার কম-বেশি সব ইউনিয়নেই পাটের আবাদ হয়ে থাকে। নাগরপুর উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা হওয়ায় এখানে পাটের আবাদ কিছুটা বেশি হয় থাকে। কৃষকরা বর্তমান পাটের বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পাটের বীজ বপনের সময় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরবর্তীতে সময়মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষার পানি আসার পর কৃষক পাট কাটা শুরু করে এবং ওই পানিতে জাগ (পচনী) দেয়। এ সময় গ্রামাঞ্চলগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও এ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ও মোকনা ইউনিয়নের কয়েকজন পাটচাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ বাবদ বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা ও আনুষাঙ্গিক খরচসহ রোদে শুকিয়ে তা ঘরে তোলা পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।

এ বছর তারা দুই জাতের পাটের আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে পাট বীজ সরবরাহ সহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বলে তারা জানান। এই এলাকায় পাটের হাট হিসাবে প্রায় প্রতিটি বাজার পরিচিত থাকলেও গয়হাটার হাট উল্লেখযোগ্য। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে বেপারিরা এসে পাট কিনে নিয়ে যান।

এলাকার পাট চাষিরা বলেন, ধানের মতো পাটের বাজারও যেন সিন্ডিকেটের দখলে চলে না যায় সেজন্য তারা সরকারিভাবে পাটের দাম নির্ধারণ ও পাট ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও জানান।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, গতবছরের চেয়ে এবার নাগরপুর উপজেলায় পাট চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উপজেলায় মোট চাষাবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। বিগত বছর আবাদ হয়েছিল ১ হাজার ৩৩১ হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন শাকিল জানান, পাটের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পাটের জমিতে শ্রমিক কম লাগে এবং জমির আগাছা ওষুধ প্রয়োগ করেই নির্মূল সম্ভব। এছাড়া পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব কারণে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছে। পাট একটি পরিবেশবান্ধব উদ্ভিদ। বর্তমান বাজারদরে পাট চাষ করে কৃষকের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর