• বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ২৯ জ্বিলকদ ১৪৪৩

দৈনিক জামালপুর

উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২২  

সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা কবলিত মানুষের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গতকালও সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার এবং আটকে পড়া মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করতে কাজ করছে নৌবাহিনীর বোট ও ডুবুরি দল। বিমানবাহিনী সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত জেলার ১০ উপজেলাই বন্যা কবলিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। তাদের উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী। সমন্বয় করে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ। হাওরের বিভিন্ন গ্রাম ডুবে যাচ্ছে। দুপুর থেকে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর টিম খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযানে নামে। সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এবং পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী ছিলেন। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান, জেলায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি। তাদের জন্য ৩২৩ মেট্রিক টন চাল, ১৩ লাখ টাকা ও ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে।

১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী জানান, জেলার ১০ উপজেলার সব কটি বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সমন্বিতভাবে খালিয়াজুরী উপজেলায় উদ্ধারকার্য চালানো হয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে মানুষ ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র এবং গবাদি পশু রেখে আসতে চাচ্ছে না। তারপরও তাদের নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার কলমাকান্দা উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

নৌবাহিনী : সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করতে কাজ করছে নৌবাহিনীর বোট ও ডুবুরি দল। সিলেটের প্রত্যন্ত বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা থেকে মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে নৌবাহিনীর ছয়জন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১২টি জেমিনি বোট ও ৩৫ জন ডুবুরি সদস্য উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দুটি উদ্ধারকারী দল এসে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া উদ্ধারকার্য পরিচালনায় ১০০ জন বিভিন্ন পদবির নৌসদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত  নৌবাহিনীর এই উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বিমান বাহিনীর ত্রাণ বিতরণ : সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বন্যা কবলিত দুর্গম এলাকায় পানিবন্দি মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার এবং পরিবহন বিমানের মাধ্যমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুর্গম অঞ্চলে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হয়। এর আগে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এ আয়োজিত একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. শফিকুল আলম সিলেটের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতিতে বিমান বাহিনীর চলমান কার্যক্রম ও পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এই সংকটাপন্ন অবস্থায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার কর্তৃক উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর জন্মলগ্ন থেকেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ও দুর্গত মানুষদের সহায়তায় বিমান বাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর