• বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

  • || ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:

জামালপুরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কর্মশালা

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২১  

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তর ২৪৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুরের চারটি উপজেলাসহ সারাদেশের ১৩৪টি উপকূলীয় উপজেলায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২৩ নভেম্বর দুপুরে জামালপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অবহিতকরণ কর্মশালার শুরুতেই ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বিস্তারিত ধারণা দিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পটির সহকারী পরিচালক সুলতান মাহমুদ। তিনি জানান, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ এই ছয়টি বিভাগের ২৯টি জেলার ১৩৪টি উপজেলায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মাঠপর্যায়ে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র জামালপুর জেলার যমুনানদী তীরবর্তী দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং ইলিশ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহকারী জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান হার শতকরা ৩.৩১ ভাগ থেকে শতকরা ১৬ ভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হবে। উদ্দেশ্যগুলো হলো- মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, দক্ষতা বৃদ্ধিপূর্বক জাটকা ও মা ইলিশ আহরণকারী ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জেলেদের মাঝে ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যেমে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যে প্রকল্প এলাকাগুলোতে চার লাখ জেলেসহ অন্যান্য পেশাজীবী জনসাধারণের মাঝে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রমও এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত রয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান বলেন, মা ইলিশ ও জাটকা আহরণের সাথে জড়িত জেলেদের কষ্ট লাঘবের জন্যই এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইলিশের উৎপাদন বাড়লে শুধু জেলেরাই নয়, সবাই এর সুফল পাবেন। সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রকৃত লোককে প্রকৃত সুবিধা দিতে হবে। এই প্রকল্পের আওতায় যাতে প্রকৃত জেলেদের কার্ড দেওয়া হয় সেইদিকে খেয়াল রাখার জোর তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক।

এছাড়াও কর্মশালার সভাপতি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. কায়সার মুহাম্মদ মইনুল হাসান উপকূলীয় জেলাগুলোতে মা ইলিশ সংরক্ষণের সময়কালে জেলেদের যেমন ভিজিএফ সুবিধা দেওয়া হয়, জাটকা ধরা নিষিদ্ধ সময়েও তাদেরকে ভিজিএফ সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক দিলরুবা আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান হোসেন, ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জামাল আব্দুন নাসের খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটুস লরেন্স চিরান, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদিকুর রহমান, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা, কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মোস্তফা মনজু প্রমুখ।

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলে প্রতিনিধি, মৎস্যজীবী, জেলে ও প্রকল্পের সুফলভোগী সদস্যরা এ কর্মশালায় অংশ নেন।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর