• শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৮ ১৪২৮

  • || ১৫ সফর ১৪৪৩

দৈনিক জামালপুর

রৌমারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ৮০ হাজার মানুষ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশের বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারনে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এতে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়ে এ উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার  মানুষ পানিন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। 

বাংলাদেশ পানি উন্নায়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। 

বুধবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, চরশৌলমারী, বন্দবেড়, যাদুরচর, শৌলমারী ও রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪০ টি গ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বন্যা কবলিত মানুষগুলোর মধ্যে। অপর দিকে ২ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, শাকসবজি ২৫ হেক্টর ও বীজতলা ২৫ হেক্টর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

বাইটকামারী গ্রামের হেলাল জহির বলেন, আমাগো বাড়ি বাঁধের ভিতরে থাকলেও সরকারী ভাবে ¯øুইসগেট বন্ধ না করায় আমাগো সব ধান তলায়া গেছে, আমরা বার বার অভিযোগ করেও ¯øুইসগেট বন্ধ করতে পারিনাই, বাঁধের ভিতরের হাজার হাজার একর ধান ক্ষেত বন্যার পানিতে তলায়ে গেছে।

ফলুয়ারচর গ্রামের ওসমান আলী বলেন, বন্যার পানি বাড়ায় আমাগো ঘর বাড়ি তলায়া গেছে গরু বাছুর পোলাপান নিয়া আমরা রাস্তার উপর আশ্রয় নিছি, কোন কাজ কাম নাই। খাইয়া না খাইয়া দিন যাইতেছে আমাগো। আমরা সব সময় চিন্তায় থাকি নদীর কাছে আমাগো বাড়ি কোনসুম যে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে নদীতে নিয়া যায়। 

দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যা এসএমএ রেজাউল করিম জানান, বন্যার পানি যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমার ইউনিয়নের অনেক গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কেএম সাইদুর রহমান দুলাল মাস্টার বলেন, পাখিউড়া ব্রীজের পাশে হলহলিয়া নদীর ¯্রােতে পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৫০টি পাড়া ভেঙ্গে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পানি উঠেছে এবং হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রৌমারী উপজেলায় এক লক্ষ টাকা, ২৫ টন জিআর এর চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, চলতি বন্যায় রোপা আমন ২৭৫০, শাকসবজি ২৫ ও বীজতলা ২৫ হেক্টর ফসলি জমি নিম্মজিত হয়েছে। 

উপজেলা হির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রনয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বন্যার পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর