• শুক্রবার   ০৭ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২২ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:

রৌমারীতে বন্যার পানি শুকিয়ে বেড়েছে দূর্ভোগ

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২২  

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার এবার প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি শুকিয়ে বেড়েছে জনদূর্ভোগ ও বন্যার ছোবলে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে হারিয়ে গেছে কৃষকের মুখের হাসি। 

বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আউস ধান , পাট, তিল, কাউন, চিনা ও সবজিসহ বিভিন্ন প্রজাতি ফসলের গাছ পচে যাচ্ছে এবং দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ মারত্মক ভাবে ক্ষতি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে উপজেলার ঝাউবাড়ি, আলগারচর, লাঠিয়ালডাঙা, বকবান্দা, বাওয়ারগ্রাম, চুলিয়ারচর, বারবান্দা, পূর্ব ইজলামারী, মাদারটিলা, ঠনঠনিপাড়া, ফুলবাড়ি, চর বন্দবেড়, কুটিরচর, খানপাড়া, বাঘমারা, পালের চর, ফলুয়ার চর, বলদমারা, বাইসপাড়া, বাইটকামারী, ঘুঘুমারী, চরশৌলমারী, গেন্দার আলগা ও সুখেরবাতিসহ প্রায় ৪০টি গ্রামের কৃষকের জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। যারা কৃষির উপর নির্ভরশীল তারা ভবিষ্যত অন্ধকার দেখছেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারনে বন্যা পরবর্তি ফসল উৎপাদনে হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি প্রনোদনার দাবী জানান। অপর দিকে বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। কাঁচাপাকা রাস্তা ভেঙে যানবাহন চলাচলে ব্যহত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় মালামাল বহনে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ। পায়ে হেটে যাতায়াত করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশাজীবি মানুষ। 
শিবেরডাঙি গ্রামের পাট চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আশা ছিল গত বারের মত লাভবান হবো। সে আশা পন্ড হয়ে গেল। 
চান্দারচর গ্রামের সফিল হক জানান, ভুট্টা কেটে ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পানি আসার আগে ৬/৭ হাজার টাকা দিয়ে জমি নিড়ানি দিয়েছি। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  কাইয়ুম চেীধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল চাষাবাদ হয়েছিল। পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই সা¤প্রতিককালের বন্যায় নিম্মজিত হয়েছে। ফলে ক্ষতির দিকটা বেশি। রাজিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  জানান এই উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল (ভার:) জানান, হঠাৎ বন্যার কারনে বিভিন্ন ফসলসহ রাস্তাঘাটের বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে। অপর দিকে যে সব রাস্তা বন্যার পানিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর