• শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দৈনিক জামালপুর

সেলাই থেকে উদ্ভাবনে দেশের পোশাক খাত

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২২  

পোশাক খাতের বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের এক ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। দেশের পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি আর ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়াতে এই উদ্যোগ হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে বিশ্বের বড় উদ্যোক্তাদের নিয়ে এই আয়োজন অনেক বড় সাহসী উদ্যোগ। বাংলাদেশ একসময় সেলাই আর জাহাজীকরণ করলেও এখন উদ্ভাবনেও যে কাজ করছে, তা-ই দেখে যাবেন ক্রেতারা।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সপ্তাহব্যাপী ‘মেড ইন বাংলাদেশ উইক’ শেষ হচ্ছে আজ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের (বিএই) সহযোগিতায় বিজিএমইএ এই মেগাইভেন্টের আয়োজন করছে। এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিশ্বের প্রায় ৫৫০ ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিনিধিকে। তাঁদের বেশির ভাগই ঢাকায় এসেছেন। পোশাক খাতকে টেকসই করতে নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছেন তাঁরা। এতে বাদ পড়েনি নকশা, জ্বালানিসাশ্রয়ী আর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি।
প্রদর্শনীতে কথা হয় পোশাক খাতের ৪০ বছরের পুরনো বন্ধু যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান এপিক গ্রুপের নির্বাহী চেয়ারম্যান রাজন মাহথানির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায় আছি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ভালো করছে বাংলাদেশ। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বেশ ভালো। মন্দায় বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের একই ছাদের নিচে নিয়ে আসার এই আয়োজন সাহসী উদ্যোগ। ’

রাজন মাহথানি বলেন, ‘এ সাফল্যের পথ ধরে মন্দা মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ২০৩১ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনও সম্ভব বলে আশা করছি। তবে এ জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হবে। মৌলিক পোশাক থেকে বের হয়ে উচ্চমূল্যের পোশাকে রপ্তানিতে যেতে হবে। সেই সম্ভাবনাও আছে। এ জন্য ভিয়েতনাম-চীনের ঘাটতি পূরণ করা গেলে সহজেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। ’ 

বিজিএমইএর সভাপতি মো. ফারুক হাসান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট মোকাবেলায় অবদান রাখবে এই আয়োজন। এ ছাড়া বৈশ্বিক মন্দা মোকাবেলা করতে প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজার নিয়ে কাজ করছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে বর্তমান হিস্যা দ্বিগুণ করার পথনকশা নিয়ে কাজ করছি। ’ তবে এ জন্য সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছেন ফারুক হাসান।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশন (আইএএফ) সভাপতি সেম অলটান বলেন, ‘বিশ্ব পোশাক বাজারে বাংলাদেশ সতর্ক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সবুজ কারখানায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ক্রেতারা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে। একসময় সস্তা দর হলেও উদ্যোক্তাদের দর-কষাকষির সক্ষমতা বেড়েছে। তবে মৌলিক পণ্য থেকে বের হয়ে উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে প্রবেশ করতে হবে। বাংলাদেশের অনেক উদ্যোক্তাই স্যুট, ব্লেজার, অন্তর্বাস ও বিলাসী পণ্যের বাজারে ঢুকতে শুরু করেছেন। ’

কথা হয় জার্মানির পোশাকশিল্পের ফিনিশিং পণ্যের আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভাইটের সঙ্গ। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পোশাক কারখানায় আয়রন (ইস্তিরি) ব্যস্থাপনায় সময়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তাঁরা। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে কম সময় ও জনবল নিয়ে অনেক বেশি উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া ৬০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী। বাংলাদেশে ব্যবহার হয় এমন যন্ত্রপাতির প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে তাঁদের প্রতিষ্ঠান। তিনি জানান, চলতি বছর বার্ষিক লেনদেন কম হলেও ২০২১ সালে এক কোটি ডলারের পণ্য সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ একসময় কেবল সেলাই আর জাহাজীকরণ করলেও বর্তমানে উদ্ভাবনেও কাজ করছে উল্লেখ করে ডার্ড গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশাল কুমার বলেন, ‘প্রকৃতি থেকে নেওয়া নকশা দিয়ে তৈরি করা পরিবেশবান্ধব পোশাক প্রস্তুত করে তাঁর প্রতিষ্ঠান। তাঁদের এসব নকশা ক্রেতারা স্ক্যান করে ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে কম সময়ে দ্রুত নকশা পেয়ে যায় ক্রেতা। অর্ডার ও পোশাক সরবরাহে সময়সাশ্রয়ী হয় বলে জানান বিশাল। ডার্ডের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি ও উদ্ভাবনে প্রতিবছর ২০ শতাংশ বিনিয়োগ করছে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর