• সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৭ ১৪২৯

  • || ০৭ রজব ১৪৪৪

দৈনিক জামালপুর

ভোগ্যপণ্যের জন্য এলসি খুলতে সহায়তা দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২৩  

রমজান মাস সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ানোর লক্ষ্যে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে বিশেষ সহায়তা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সহায়তা পাবেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। এতে ডলার সংকটের মধ্যেও আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি জানান, আগামী রমজানে ভোগ্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না। পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য মজুত আছে, এ ছাড়া আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত  টাস্কফোর্সের পঞ্চম সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
এদিকে, ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো পণ্য আমদানিতে এলসি নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ অবস্থায় শুধু ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এলসি নিতে ব্যাংকগুলোকে সুপারিশ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া রোজা সামনে রেখে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলারের জোগান কিংবা ডলারের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কোটা সুবিধা দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া এলসির বাইরে পণ্য আমদানির সুযোগ পাওয়া গেলে তাতেও  অনুমোদন দেওয়া হবে। রমজান মাস সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ানো, পণ্য আমদানিতে এলসি খুলতে সহায়তা, ডলারের জোগান বাড়ানো, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ ও পণ্য মজুত ঠেকানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় বৈঠকে। বাণিজ্যমন্ত্রী বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন ,এ মুহূর্তে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভোগ্যপণ্যের মজুত রয়েছে। দেশের মানুষ স্বাভাবিক দামেই নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন। শুধু তাই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেবে সরকার। 


টিপু মুনশি বলেন, সার্বিকভাবে ডলারের সংকট রয়েছে। সে কারণে ব্যাংক কিছুটা রক্ষণশীলতার নীতি অবলম্বন করছে। ফলে ভোগ্যপণ্যের আমদানি প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য রাখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় পণ্য আমদানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হবে। এলসি নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। তবে এলসি খোলায় মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা হবে। ঘাবড়ানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। ভোগ্যপণ্য নিয়ে চিন্তিত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।


এলসি খোলার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের কীভাবে সাহায্য করবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের জানালে আমরা সুপারিশ করব তার এলসি যেন খুলে দেওয়া হয়। অনেক সময় এলসি ছাড়াও আমরা অনুমতি দিতে পারি। তেমন হলে আমরা অনুমতি দিয়ে দেব, সেক্ষেত্রে এলসি লাগবে না। এলসি প্রসেঙ্গ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এটা একটা বিষয়। আরেকটা হচ্ছে অনেক সময় এলসিবিহীনও পণ্য আনা যায়। সেরকম পরিস্থিতি হলে আমরা অনুমতি দিয়ে দেব, এলসি লাগবে না। খুব জরুরি হলে আমরা দিতে পারি।
ওই সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, যেমন আপনি যদি এলসি খুলতে করতে চান, কিন্তু আপনারটা খুলছে না। আপনি আমাদের জানালেন। আমাদের সচিব ওই এলসির ব্যাপারে অনুরোধ করবেন, আপনারটা যাতে খুলে দেওয়া হয়। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকার পরও সমস্যা হয় ব্যবস্থাপনায়, অতি মুনাফা লাভের প্রত্যাশায়। রমজানকে সামনে রেখে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, এই সমস্যাগুলো আছে।


আমরা আলোচনা করেছি। প্রথম পর্যায় হলো দাম নির্ধারণ করা, দ্বিতীয় হলো বাজারে সেই দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে কিনা এবং অতি মুনাফা লাভের আশায় কেউ মজুতদারী করছে কিনা? এ সবগুলো আমরা মনিটরিং করছি। এটা ঠিক, যখন কোনো সমস্যা হয়, সেটা বড় করে দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলে। আমরা বলতে চাচ্ছি, যথেষ্ট পরিমাণ মজুত রয়েছে। সামনে এলসি খোলার চেষ্টা চলছে। রমজান মাসে সমস্যা হবে না বলেই আমরা মনে করছি। 
প্রতিবার রোজার আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে এবং জানায় পর্যাপ্ত মজুত আছে, কোনো সমস্যা হবে না। তারপর দেখা যায় দাম বেড়ে যায়। এবারও তেমন হতে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, রমজান শুরুর ৭ দিন আগে ক্রেতারা বাজারে উপচে পড়েন। প্রকৃতপক্ষে সেটা দরকার  নেই। এক মাসের পণ্য একবারে না কিনে প্রতিদিন কিনলে এই সমস্যা হয় না। ক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশের সব মানুষ যদি মনে করে, একদিনে সব কিনে ফেলব, তা হলে তো হবে না! সরবরাহ তো ঠিক রাখতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা রাখতে হবে, হুট করে কেনার দরকার নেই। এটা সারা মাস ধরেই পাওয়া যাবে।


আপনারা এক মাসের জিনিস একসঙ্গে কিনবেন না। আমরা সার্বিকভাবে চেষ্টা করছি, রমজান মাসে যাতে সমস্যা না হয়। টিপু মুনশি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে সাতটি ভোগ্যপণ্যের কোটা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত আমাদের পণ্য দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। আমাদের কি পরিমাণ পণ্যের প্রয়োজন হবে সে বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, দেশের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে  ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক হতে হবে। যাতে ভোগ্যপণ্যের বাজারে ন্যায়সঙ্গত মূল্য নিশ্চিত করা যায়। সরকার সার্বিক বিষয়ে অবগত আছে, নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য আমদানিতে এলসি খোলাসহ সব ধরনের সহযোগিতা সরকার দেবে। সকল ব্যবসায়ীকে সততার সঙ্গে সঠিক ব্যবসা করতে হবে।
চিনির আমদানি শুল্ক কমাতে চিঠি দেওয়া হবে ॥ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে বেশি মূল্যে চিনি বিক্রি হচ্ছে এবং রমজানে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় চিনির দাম কমানোর কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে এনবিআরকে অনুরোধ করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, আগামী রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও পামওয়েলের দাম বাড়েনি। দাম এখন মোটামুঠি ভালো অবস্থায় আছে।


এ ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আগামীতে দাম বাড়বে না।। এক্ষেত্রে ডলারের বিপরীতে টাকার রেটের বিষয় স্থির থাকতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে যে প্রবৃত্তিটা আমরা দেখছি বিনিময়ের, সেটা ভালোর দিকেই আছে। টিপু মুনশি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে ভোগ্যপণ্যের সাতটি আইটেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মূলত রমজান মাসকে সামনে রেখেই আলোচনা করা হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার  জেনারেল মো. আরিফুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর