• বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩১

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক জামালপুর

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৪  

আজ ৪ জিলহজ। ঐতিহাসিক বিদায় হজের সময় আজকের এ দিনে মহানবী হজরত মুহম্মদ (স.) মদীনা শরীফ হতে মক্কা শরীফে এসে পৌঁছেন। স্মর্তব্য, দশম হিজরির জিলক্বদ মাস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মায়া’য (রা.)-কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করে প্রেরণ করার সময় অন্যান্য প্রয়োজনীয় কথার পর বললেন, ‘হে মায়া’য সম্ভবত এই বছরের পর আমার সাথে তোমার আর সাক্ষাৎ হবে 
না।

হয়তো এরপর তুমি আমার মসজিদ এবং কবরের কাছে দিয়ে অতিক্রম করবে।’ সাহাবী হযরত মায়া’য (রা.) একথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিরবিদায়ের কথা ভেবে কাঁদতে শুরু করলেন। 
এক শনিবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার পথে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন।

জিলক্বদ মাসের তখনো চারদিন বাকি ছিল। তিনি মাথায় তেল দিলেন, চুল আঁচড়ালেন, তহবন্দ পরলেন, চাদর গায়ে জড়ালেন, কোরবানির পশুকে সজ্জিত করলেন এবং জোহরের পর রওয়ানা হলেন। আছরের আগেই তিনি যুল হুলাইফায় পৌঁছুলেন। সেখানে আছরের দুই রাকআত নামাজ আদায় করলেন। রাত যাপনের জন্য তাঁবু স্থাপন করলেন। 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর তাঁর সফর অব্যাহত রাখলেন। এক সপ্তাহ পর তিনি এক বিকেলে মক্কার কাছে পৌঁছে যি’তুবায় অবস্থান করলেন এবং ফজরের নামাজ আদায়ের পর গোসল করলেন। এরপর মক্কায় প্রবেশ করলেন। সেদিন ছিল দশম হিজরির জিলহজ মাসের চার তারিখ রবিবার। 
জিলহজ মাসের আট তারিখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় গমন করলেন। সেখানে ৯ জিলহজ পর্যন্ত অবস্থান করলেন। জোহর, আছর, মাগরিব, এশা এবং ফজর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সেখানে আদায় করে সেখানে সূর্যোদয় পর্যন্ত  অপেক্ষা করলেন। পরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন। সেখানে পৌঁছে দেখেন নেমরাহ প্রান্তরে তাঁবু প্রস্তুত রয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপবেশন করলেন। সূর্য ঢলে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশে উটনির পিঠে আসন লাগানো হলো। তিনি প্রান্তরের মাঝামাঝি স্থানে গমন করলেন। সেই সময় সেখানে চারদিকে এক লাখ চব্বিশ হাজার মতান্তরে এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার মানুষের সমুদ্র বিদ্যমান ছিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমবেত জনসমুদ্রের উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। যা আমাদের দেশে বিদায় হজ নামে পরিচিত। ভাষণে তিনি এক পর্যায়ে বলেন: হে জনস্রোত! তোমাদের রক্ত এবং ধন-সম্পদ পরস্পরের জন্যে আজকের দিন, বর্তমান মাস এবং বর্তমান শহরের মতোই নিষিদ্ধ.....।
অথচ আজ আমরা বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণের সে শিক্ষা ভুলে গিয়ে মুসলমান দাবি করছি। নবীজী আমাদের পরস্পরের রক্ত, সম্মান এবং স¤পদকে অপরের জন্য হারাম করে গেছেন। আর আমরা আজ ইসলামের নামে জিহাদের নামে আত্মহত্যার মাধ্যমে নিরীহ মুসলিম অমুসলিম ভাইদের হত্যা করে শাহাদাত প্রাপ্তি জান্নাত প্রাপ্তির অহমিকা প্রদর্শন করে চলছি। এটা কি আমাদের গোমরাহী ও পদস্খলন নয়? আজ সময় এসেছে আমাদের নতুন করে রাসূলের আদর্শ, বিদায় হজের ভাষণের মর্মার্থ উপলব্ধির।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর