• বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ২ ১৪৩১

  • || ০৯ মুহররম ১৪৪৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধূসর স্মৃতি: শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৪  

আমাদের সমাজে এমন একটি শ্রেণি আছে যাঁরা অন্যের সন্তানের সাফল্য দেখে নিজেরা গর্ববোধ করেন। তাঁরাই শিক্ষক। 

সাধারণ কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়ে লিখতে যাওয়া অতি সাধারণ একজন শিক্ষার্থী আমি। আমরা ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলাধীন দক্ষিণ খাশিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। সেই সময় মো. আ.  হাই খোকা স্যার ছিলেন আমাদের প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। 

আমরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম ভালো ছাত্র হিসেবে কখনো কখনো আমাদের কাউকে কাউকে গণ্য করা হতো। আমি কারো প্রিয় ছাত্র ছিলাম কিনা জানি না। তবে আমাদের প্রিয় শিক্ষক ছিলেন অনেকেই। তাঁরা কেউ কেউ বিদায় নিয়েছেন পৃথিবী থেকে। তবে আমাদের মন থেকে কখনোই নয়। তাঁদের সরল সাধারণ জীবনযাপন অনুকরণীয় ছিল। তাঁদের মুখ এখনো ধ্রবতারার মতো হয়ে আমাদেরকে পথ দেখায়। আমাদের সময়ে স্কুলের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমরা শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি মেলান্দহের খাশিমারা গ্রামের মো. আ. হাই খোকা স্যার ও মো. মজিবুর রহমান স্যারকে। এ সময় আমাদের স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন মেলান্দহের পুঠিয়াপাড়ার মো. রবিউল ইসলাম স্যার। কিছু কাল পরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছিলেন। তিনি এখনো একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনমের সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। আমাদের কালে শিক্ষকদের অতি সাধারণ ছিল তাঁদের জীবনযাত্রা। কোনোদিন তাঁদেরকে ইস্ত্রি করা কাপড় পরিধান করে আসতে দেখেনি। কেউ কেউ পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিধান করতেন। ১৯৯৬ সালে মো. মজিবুর রহমান স্যার মৃত্যুবরণ করেন। মো. মজিবুর রহমান স্যার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি মৃত্যুবরণ করলেও বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।
খুব সম্ভবত মেলান্দহের ঝাউগড়ার রোহেলী গ্রামের লম্বা চেহারার মো. আ. মোতালেব ও ঘোষেরপাড়ার মো. নজরুল ইসলাম স্যার ১৯৯৩-’৯৪ সালের দিকে আমাদের স্কুলে কিছুদিন ছিলেন। এঁদেরকে আমরা বেশিদিন শিক্ষক হিসেবে পাইনি। বদলির আদেশ এলে তাঁরা অন্য স্কুলে চলে যান। তাঁদের স্মৃতির অধ্যায়টা খানিকটা ¤øান। তবে মনে পড়ে মো. নজরুল ইসলাম স্যার ও মো. আ. মোতালেব স্যার সংস্কৃতিমনা ছিলেন। এ সময় মাদারগঞ্জের জোনাইল গ্রামের চালেনিপাড়ার মো. আ. হাকিম স্যারও তৃতীয় শ্রেণিতে অল্প কয়েকদিন আমাদের ক্লাস নিয়েছিলেন। তিনি অনেক দিন ধরে আমাদের স্কুলে শিক্ষকতারত হিসেবে ছিলেন। সম্ভবত ১৯৯৩-১৯৯৪ সালের দিকে তিনি বদলির আদেশে অন্য স্কুলে চলে যান।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে চাই ১৯৯৫ সালে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য মো. রবিউল ইসলাম, মো. জিয়াউল ইসলাম স্যার, মো. আবুল কালাম আজাদ আবু স্যারের কাছে পড়েছি। পঞ্চম শ্রেণির ফলাফল বেরুলো, আমরা আমরা কেউ কেউ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি হলাম। তার কিছুদিন পর পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষারও ফল বেরুলো। আমি বৃত্তি পেয়েছিলাম। মো. আব্দুল হাকিম স্যার, মো. নজরুল ইসলাম স্যার, মো. আ. হাই খোকা স্যার, মো. রবিউল ইসলাম স্যার প্রমুখ এখনো বেঁচে আছেন। এঁদের কারো কারো সাথে আমার এখনো কথা হয়। তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। মো. মজিবর রহমান স্যারসহ যাঁরা ইন্তেকাল করেছেন। তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সকল স্যারের প্রতি অন্তর থেকে বিন¤্র শ্রদ্ধা জানাই। 
লেখক : প্রাক্তনী, দক্ষিণ খাশিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেলান্দহ, জামালপুর। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ ১৯৯৫ ও বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী।
 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর