• শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ১ ১৪৩১

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:

১৮ বছর ধরে ভাত খান না কাইয়ুম

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

কাইয়ুম এখন ১৮ বছরের তরুণ। জন্মের পর ৬ মাস বয়সে প্রথমে মুখে ভাত দিলে বমি করে ফেলে দিতেন তিনি। তারপর আর কোনোদিনই ভাত খাওয়ানো যায়নি তাকে। কাইয়ুম ১৮ বছর ধরে মুড়ি, রুটি, তরকারি, মাছ, মাংস ও ফলমূল খেয়ে বেঁচে আছেন।
এমনই এক বিচিত্র তরুণের দেখা মিলেছে শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের নয়ন মাদবর কান্দি গ্রামে। তিনি ঐ গ্রামের শিপন মোড়লের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাল সিদ্ধ জাতীয় কোনো প্রকার খাবারই খেতে পারেন না কাইয়ুম। এসব মুখে দিলেই তার বমি আসে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ, গরুর দুধ, আটার রুটি আর পাউরুটি খেয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রুটির পাশাপাশি ডিম, মুড়ি ও ফলমূল খেতে শুরু করে। এখন বাড়িতে রান্না করা তরকারি ও মুড়ি তার প্রধান খাদ্য। এসব খেয়েই একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো বেঁচে আছেন তিনি।

কাইয়ুমের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘ওর বাবা ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে বেশি উপার্জন করা যায় না। ভাত ছাড়া অন্য কিছু খেতে হলে তো খরচ বেশি হয়। তারপরও তার জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি ভাত খাওয়ানোর জন্য। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি’।

কাইয়ুমের বোন শিমু আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শুধুমাত্র আমার বাবা।  কাইয়ুমকে ভাত খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজ দেখানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই ফল না পাওয়ায় এখন আর চেষ্টা করা হয় না।

কাইয়ুম বলেন, আমি আমার জীবনে কোনো দিন ভাত খাইনি। ভাতের গন্ধ আমি সহ্য করতে পারি না। ভাত, পোলাও, খিচুড়ি ও খুদের ভাত দেখলেই আমার বমি আসে। বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে গেলে আমি মাংস ও মাছ খাই। পোলাওসহ অন্যান্য চাল সিদ্ধ জাতীয় খাবার খাই না।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ পরান বলেন, কাইয়ুমের ১৮ বছর ধরে ভাত না খাওয়ার ঘটনায় আশ্চর্য হয়েছি। তার ভাত না খাওয়ার বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। প্রয়োজনে আমরা তাকে চিকিৎসা দেব।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর