• বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩১

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক জামালপুর

ভাত বেশি খেলে কি ডায়াবেটিস হয়?

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৪  

অনেকে ভাবেন বেশি বেশি ভাত খেলেই ডায়াবেটিস হয়! কিন্তু এই রোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক বিষয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, বাইরের খাবার খাওয়ার প্রবণতা, কায়িক শ্রম কম করা, তেল-মশলাদার, মিষ্টির মতো খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসেও শরীরের বাসা বাঁধতে পারে ডায়াবেটিস।

ভাত খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগ হলেও ভাত খাওয়া যেতে পারে। তবে সাদা ভাত নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাদা ভাতের পরিবর্তে ভরসা রাখতে পারেন ‘ব্ল্যাক রাইস’-এ। অনেকেই হয়তো জানেন না, এই চালের ভাত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। ব্ল্যাক রাইসের পুষ্টিগুণ অনেক।

 ১) ব্ল্যাক রাইসে ফাইবার এবং প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ব্ল্যাক রাইস হতে পারে অন্যতম ভরসা।
 
২) ডায়াবেটিস হলে ওজন বেড়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। যারা এই রোগে ভুগছেন এমন অনেকেরই ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। রক্তে শর্করার মাত্রার পাশাপাশি ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজের পাতে সাদা ভাতের পরিবর্তে রাখতেই পারেন ব্ল্যাক রাইস।

৩) গ্লুটেন আছে এমন খাবার এড়িয়ে চলার কথা বলে থাকেন চিকিৎসকরা। কারণ গ্লুটেনযুক্ত খাবার এমন রোগীদের শরীরে নানা রকম বাড়তি অসুস্থতার জন্ম দেয়। ব্ল্যাক রাইসে গ্লুটেন নেই। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে অনায়াসে খেতে পারেন এই চালের তৈরি ভাত।
 
৪) টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও ব্ল্যাক রাইস কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ফাইবার এবং ম্যাগনেশিয়াম-সমৃদ্ধ ব্ল্যাক রাইস ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়তে হাতিয়ার হতে পারে। ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে ব্ল্যাক রাইস।

তবে সকলের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক রাইস স্বাস্থ্যকর ভূমিকা পালন করে না। ডায়াবিটিসের সঙ্গে সঙ্গে কারও যদি হৃদ্‌রোগ, গ্যাস বা শারীরিক অন্য কোনও সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে কিন্তু এই চালের ভাত না খাওয়াই ভাল।

আবার একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গরম ভাত খাওয়ার পরিবর্তে ডায়াবেটিস রোগীরা যদি ঠান্ডা ভাত খান, তাহলে তাদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। গবেষণা চলাকালীন, রোগীদের দুটি ভিন্ন ধরণের খাবার দেয়া হয়েছিল। খাবারের আগে গবেষকরা এই সব রোগীর রক্তে সুগারের মাত্রা মেপে নেন। রোগীদের প্রথমে লম্বা দানা সাদা চালের গরম ভাত খেতে দেয়া হয়েছিল। আর পরের দিন আগের দিনের গরম ভাত ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে আবার গরম করে রোগীদের খেতে দেয়া হয়।
 
গবেষকরা দেখেছেন যে রোগীরা যখন ঠান্ডা ভাত খেয়েছিলেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ছিল। গরম রান্না করা ভাত খাওয়ানোর পরই তাদের রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। গবেষণা শেষে জানা গিয়েছে, খাবারে ভাতের মতো কুল কার্বোহাইড্রেট অন্তর্ভুক্ত করে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই গবেষণায় গবেষকরা দেখেছেন যে গরম ভাতের তুলনায় ঠান্ডা ভাতে প্রতিরোধী স্টার্চ বেশি পাওয়া যায়। প্রতিরোধী স্টার্চ হজম হতে অনেক সময় নেয়। ফলস্বরূপ, ফাইবারের মতো প্রতিরোধী স্টার্চ রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর