• রোববার ১৬ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২ ১৪৩১

  • || ০৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক জামালপুর

উদ্বোধনের অপেক্ষায় মাদারগঞ্জের খড়কাবিল সেতু

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৩  

শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় উন্নয়নের কারিগর মির্জা আজম এমপির  ম্যাজিকে অবহেলিত জামালপুর জেলা সারাদেশের উন্নত ১০টি জেলার মধ্যে স্থান পেয়েছে।
জামালপুর জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি উপজেলাতে পৌঁছে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়নের ধারা। এ ধারার ছোঁয়াতে উজ্জ্বল আলোর ঝলমল করছে মাদারগঞ্জের খড়কাবিল। এখন শুধু অপেক্ষা উদ্বোধনের। খড়কাবিলের সেতুকে ঘিরে ৫০ গ্রামের প্রায় ১ লাখ মানুষের মাঝে আশার আলো ফুটেছে। বিলের ওপর নির্মিত সেতুটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

মাদারগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খড়কাবিল প্রাচীন কাল থেকেই এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে জেলাবাসীর হৃদয়ে। পূর্বে যমুনার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার ফলে এ খড়কাবিলে অনেক ধরনের মাছের আবাসস্থল ছিলো। থাকতো বাঁশবাতারীমাছ, ইলিশ, কত্তিমাছে ভরপুর। সারা বছরই এ বিল থেকে এলাকার জনসাধারণ ও মৎস্যচাষিরা মাছ ধরে তাদের চাহিদায়।

খড়কাবিল ব্রিজে আসতে জামালপুর শহর থেকে প্রধান সড়ক ধরে যেকোনো যানবাহনে পাকা রাস্তা ধরে যাওয়া যায়। উপজেলা সদর বালিজুড়ি বাজার থেকে অটোরিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল, মোটরযান, বাস, মাইক্রো, পাকারাস্তা দিয়ে আসা যায়। তবে খড়কাবিলের আসার যে রাস্তাটি তার নাম হাওয়াই রোড।

জানা গেছে, ভায়াডাক্টসহ ২৬০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটির নির্মাণ ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয় ২৩ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ঠিকাদারি কাজ পায় চৌধুরি এন্টারপ্রাইজ। আগামী নভেম্বর এ কাজের মেয়াদ শেষ হবে। আর ২০২০ সালের শুরুতে স্থানীয় এমপি মির্জা আজম সেতুটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এদিকে উদ্বোধনের অপেক্ষায় দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষের আগমন ঘটছে। বিকেলে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠছে সেতু এলাকা।

জান্নাত মিতু নামে এক তরুণী জানান, তার বাড়ি সেতু এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। ফেসবুকের মাধ্যমে দেখে তিনি সেতুটি দেখতে এসেছেন।

বালিজুড়ি ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সর্দার আব্দুল হাই বলেন, যখন এই সেতুটি ছিল না তখন আমাদের তারতাপাড়া থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও জরুরি সেবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে হতো নৌকা পারাপারে। এতে আমরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকতাম। এখন সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় আমরা সহজেই ও খুব দ্রত সময়ের মধ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছে যাচ্ছি। সেতুটি নির্মাণ করায় মির্জা আজম এমপিকে ধন্যবাদ জানাই।

মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, খড়কা বিলের ওপর নির্মিত সেতুটির কাজ ৯৮ শতাংশ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে নভেম্বর মাসেই সেতুটির উদ্বোধন করতে পারব।

তিনি আরো বলেন, সেতুটির পাশে সংযোগ সব খানাখন্দ রাস্তাগুলোও সংস্কার করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সেই প্রস্তাবের অনুমোদন পাওয়া যাবে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সদস্য ওবায়দুর রহমান বেলাল বলেন, এককালের ঐতিহ্যবাহী এই বিলটিকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উন্নত করার লক্ষ্যে এ এলাকা থেকে বারবার নির্বাচিত এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেন। ফলে অবহেলিত এই বিল এখন সেরা পর্যটন কেন্দ্রে পরিচিত লাভ করছে।

তিনি আরো বলেন, বিলের দু’ধারে পাঁকা রাস্তা, বিলের ওপর দৃষ্টিনন্দন সেতু, পাশে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, পৌরসভা ভবন বিলটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। ফলে উন্নয়নের এ মহাকাব্য ঘিরে সবার প্রত্যাশা ছিলো এই বিলের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকুক মির্জা আজম এমপির নামও।

জিয়াউর রাফি বলেন, একজন কর্মবীর, উন্নয়নের কারিগর মির্জা আজম এমপি। যিনি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখেন, উন্নয়নের কাব্য লিখেন। তার কর্ম- পরিকল্পণা ও ক্লান্তিহীন পরিশ্রমে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো-সহ সকল খাতের ব্যাপক উন্নয়ন এ জনপদের মানুষগুলোকে করে তুলেছে আত্মবিশ্বাসী এবং তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নকে সমগুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। মাদারগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খরকা বিলকে ঘিরে রচনা করতে যাচ্ছেন উন্নয়নের আরেকটি মহাকাব্য।

মাদারগঞ্জ খড়কাবিল সেতুতে এরই মধ্যেই বিলের উত্তর পাড় ঘেষে হাওয়াই রোড নামে নির্মিত রাস্তাটি একটি অসাধ্য সাধন বটে। বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো হয়েছে রাস্তার পাশে।

বিলের দক্ষিণ পার্শ্বে তীর ঘেঁষে মোঘল স্থাপত্য শৈলীর অপরূপ নিদর্শন, বিশ্বের সপ্তাশ্চার্যের অন্যতম ‘তাজমহল’ এর অবিকল প্রতিরূপ একটি মসজিদ নির্মাণ করা হবে। বিলের মাঝামাঝি উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন নির্মিত হয়েছে দৃষ্টি নন্দন একটি ব্রিজ। ব্রিজের পাড়ে করা হবে একটি মুক্তমঞ্চ। নির্মিত হবে একটি দৃষ্টি নন্দন সুরম্য তোরণ। পশ্চিম পাশে স্টেডিয়াম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এর ফলে বিলের চারিপাশে উকি দিচ্ছে সভ্যতার এক নূতন দিগন্ত। উৎসুক মানুষের উদ্দীপনাপূর্ণ ব্যাকুল প্রতীক্ষার প্রহর আর যেন তর সইছে না। সবার আস্থা, বিশ্বাস ও আবেগে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। সন্দেহের অবকাশ নেই মির্জা আজম এমপির স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে খড়কাবিল হবে দেশের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্ৰ ৷ 

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর