• শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৯ ১৪৩০

  • || ১১ শা'বান ১৪৪৫

দৈনিক জামালপুর

চরের পতিত জমি এখন ফসলে ভরপুর

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৪  

চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বালুচরের পতিত জমি ফেলে না রেখে কৃষকরা চাষ করেছেন বিভিন্ন জাতের ফসল। যতো দূর দৃষ্টি যায় শুধুই চোখে পড়ে বিভিন্ন ফসল। জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার আওনা ইউপির কুলপাল, আওনা, ঘুইঞ্চা, স্থলচরা, কুমারপাড়া, বাড়ইকান্দি গ্রামগুলো খরস্রোতা যমুনা নদীর অববাহিকায় পলিমিশ্রিত মাটিতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ফসল। এক সময় শত শত একর জমি পতিত পড়ে থাকতো। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বালুময় এসব জমিগুলো পতিত না রেখে এখন ভুট্টা, খেসারি কলাই, মাসকলাই, তিশি, ধনিয়া শস, বাদাম, মসুর ডালসহ বিভিন্ন জাতের অর্থকরী ফসল চাষ করেছেন কৃষকরা। কুলপাল চরের কৃষক আব্দুল বারিক বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এখানকার কৃষক তাদের জমিতে ফসল উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে। কৃষক জামাল উদ্দিন, মোবারক হোসেন এবং মজিবর রহমান জানান, এক সময় চরের জমিতে তেমন ফসল হতো না। তাই অভাব-অনটনে দিন চলতো। এখন ব্যাপক ফসল হচ্ছে। সবাই এখন ভালোভাবে চলছে। লেবু মিয়া বলেন, এখন শীতের কারণে বাদামের গাছ তেমন বাড়ছে না। শীতের শেষে পুরো ক্ষেতে ছেয়ে যাবে বাদামের গাছে। তার সঙ্গে রফিকুল, আজাদ, সাইফুল, মোশারফ, পারভেজ, আনোয়ার, শফিকুল, নজরুল, কামাল, ছালাম, ফজল, আজিজল, মনোয়ার, দেলোয়ার, মুকুলও বাদাম চাষ করেছেন। ইলিয়াস সরকার গত বছর ১২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে ভালো দাম পেয়েছিলেন। এ বছর তিনি ১৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত বছর ১ হাজার ৩২০ টাকা দরে ভুট্টা বিক্রি করেছিলেন। প্রতি বিঘাতে তার খরচ হয়েছিলো ১১ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে ভুট্টা হয় গড়ে ৪০ মণ। যা অন্য কোনো ফসল চাষ করে এতো লাভ করা সম্ভব নয়। তাই তিনি এ বছর আরো বেশি করে জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া জানান, চরের মানুষ প্রতিদিন আসে সার ও কীটনাশক কিনতে। বেচাকেনাও ভালো। এতে তার ব্যবসায় বেশ গতি এসেছে। এছাড়া কিছু সময় কৃষকরা বাকিতে সার-কীটনাশক নিয়ে যায়। ফসল তুলে তা পরিশোধ করে দেন। জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা জানান, চরাঞ্চলে এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষক এখন বেশ লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ তাদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এখন আর আগের মতো কোনো জমি পতিত পড়ে থাকছে না। তাছাড়া প্রত্যেক উপজেলাতে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলে কৃষক লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভবান হচ্ছে।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর