• শুক্রবার   ০৭ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২২ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দৈনিক জামালপুর
সর্বশেষ:

স্বপ্নের পদ্মা সেতু: বাড়ছে দুই পাড়ের জমির দাম

দৈনিক জামালপুর

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২২  

সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ২৫ জুন উদ্বোধন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। এই সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করেই এর দুই প্রান্তের জমির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। শিল্পপতি থেকে ব্যবসায়ী যার যেমন সাধ্য অনেকেই ক্রয় করেছেন জমি। কিন্তু এখন যারা জমি ক্রয় করতে চাচ্ছেন তাদের মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জমি কিনতে পারছেন না। কারণ জমির মালিকরা এখন আর জমি বিক্রিতে উত্সাহী নয়। 

দুই প্রান্তের মানুষের যারা জমির মালিক তারা লাভবান হয়েছেন এবং হচ্ছেন। অনেকেই জমি বিক্রয় করেছেন। আবার অনেকেই বিক্রয়ে রাজি নয়। তারা মনে করছেন এই সেতুকে কেন্দ্র করেই দুই প্রান্তের জীবনমান বদলে যাচ্ছে ও যাবে নানাভাবে। ফলে জমি বিক্রয়ে অনেকেই অনীহা দেখাচ্ছেন। তারা মনে করছেন ভবিষ্যতে এই জমির দাম বাড়বে আরো বহুগুণ। এ তো জমি নয় যেন সোনার হরিণ। মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া এবং শরীয়তপুর জেলার জাজিরা প্রান্তের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শুধু শিল্পে বিনিয়োগ নয়, অনেকে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি কিনেছেন। এছাড়া জমি কিনে বিনিয়োগ করা হয়েছে আবাসন খাতেও। ফলে এই দুই জেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলায় জমির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫/২০ গুন।

পদ্মা নদীর দু’পারে বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনের শিকার হয় হাজার হাজার পরিবার। নদী গর্ভে বিলীন হয় বসতবাড়ি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। ফলে পদ্মার দুপারে অনেকের জমি থাকলেও তার সঠিক মূল্য কখনোই পেতেন না মালিকরা। কিন্তু সময় বদলেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে কাজ চলছে নদী শাসনের। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাজিরা এলাকায় ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। বাকি এক দশমিক ৬ কিলোমিটার মাওয়া এলাকায়। এই নদী শাসনের ফলে মূল সেতুকে রক্ষা করার পাশাপাশি ভাঙ্গন কবলিত মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এই দুই জনপদের মানুষেরা এখন আর নদী ভাঙ্গনের আতংকে নেই। ফলে জমির মূল্য বেড়েছে দফায় দফায়। এখন যারা জমি ক্রয় করেছেন তারা নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা করছেন এসব জায়গায়। ফলে এখনকার মানুষের জীবনমানে এক ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

দুই বছর আগেই ২০২০ সালের মার্চে সেতুর দুই প্রান্তে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত এই এই এক্সপ্রেসওয়ের দুপাশে থাকা জমির মূল্য আকাশচুম্বী। এখন ইচ্ছো করলেও এক্স্রপ্রেসওয়ের পাশে জমি ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কিছুটা ভেতরে গিয়ে জমির কেনার সুযোগ রয়েছে। সেই জমির মূল্যও বেড়েছে ১৫/২০ গুন।


২০০৭ ও ২০০৮ সালে পদ্মা সেতুর জন্য জাজিরার চারটি মৌজায় এক হাজার ৭০১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তখন শতাংশ প্রতি সরকার নির্ধারিত দর ছিলো ৭ হাজার ১৫৪ টাকা। এখন শতাংশ প্রতি সেই দর বেড়েছে বহুগুণে। কেউ কেউ বলছেন, জমির প্রকৃত বাজারমূল্য অনেক বেশি। সেই বাজারমূল্য কেউ প্রকাশ করতে চান না। তবে মাওয়ার প্রান্তে জমি বিক্রি বন্ধই বলা চলে। কারণ যখন পদ্মা সেতু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তখন থেকেই বড় বড় আবাসন প্রতিষ্ঠান ও শিল্প গ্রুপ জমি ক্রয় করে রেখেছেন। সেই কারণে ৪/৫ কিলোমিটারের মধ্যে জমি পাওয়া দুষ্কর বলে জানালেন সেখানকার অধিবাসীরা। স্থানীয়রা বলছেন, এই সেতু যে এভাবে ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাবে সেটা জানলে হয়ত আগে জমিই বিক্রয় করতাম না। সে কারণে অনেকে জমি বিক্রয় করে এখন হতাশ। তারা বলছেন, সে সময়ে পানির মূল্যে জমি ছেড়ে দিয়েছি। আজ সেই জমির দাম যেন আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই দামেও মিলছে না জমি।

দৈনিক জামালপুর
দৈনিক জামালপুর